Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী, কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেখা গিয়েছিল বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতারা প্রায় নিয়ম করে সভা করতে আসতেন পশ্চিমবঙ্গে। শুধু নেতারাই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যোগ দিতেন কর্মসূচিতে। কিন্তু সেই প্রচার যে ভোট বাক্সে সেভাবে প্রভাব ফেলেনি তা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছিল। এবারও পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে আসছেন ভিন রাজ্যের নেতারা। প্রভাব কী জনমানসে ছাপ রাখছে, সন্দিহান দলেরই একাংশ(BJP Campaign)।
‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’ (BJP Campaign)
সালটা ২০২১। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের ভিত্তিতে বঙ্গ বিজেপিতে তখন স্লোগান উনিশে হাফ, একুশে সাফ। এরাজ্যে দায়িত্বে থাকা দিল্লির নেতারা কার্যত ধরেই নিয়েছিলেন ক্ষমতা বদল শুধু সময়ের অপেক্ষা। কেন্দ্রীয় নেতারা, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সেইসময় কার্যত সকাল-বিকেল আসছেন রাজ্যে প্রচার করতে, বরং রাজ্যের সেইসময়ে নেতৃত্ব কিছুটা নিস্পৃহ।
প্রচার জনমানসে প্রভাব ফেলেনি
ফলাফলের ক্ষেত্রে দেখা যায় সেই প্রচার জনমানসে তেমন প্রভাব ফেলেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশও মনে করে, অন্যান্য রাজ্য আর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চেতনার মধ্যে একটা মৌলিক ফারাক আছে। এখানে ভিন রাজ্যের হিন্দিভাষী নেতাদের প্রচার সেইভাবে আঁচড় কাটে না সাধারণের মনে। এবার বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা যোগ দিয়েছেন।
প্রচারে কি একুশের পুনরাবৃত্তি?
শনিবার ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার শেষ হবে। তারপর আবার শুরু হবে নতুন উদ্যমে প্রচার। কিন্তু প্রশ্ন ভিন্ন, রাজ্যের নেতাদের এই প্রচার ২০২১-এর পুনঃরাবৃত্তি করবে নাতো? বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
বিজেপি নয়া সমস্যা (BJP Campaign)
অন্যদিকে বিজেপি দলের মধ্যে নতুন একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের মুখে দুই কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে রাজ্য বিজেপিতে অসন্তোষ। রাজ্য নেতৃত্বের একটা অংশের বক্তব্যকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ। এমন কি বিজেপির পুরনো কর্মীদের বৈঠকের মধ্যে এমনভাবে কথা বলছেন যে তাঁরা অসম্মানিত মনে করছেন। অনেকে বৈঠকে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
রাজ্য সভাপতির উদ্যোগ (BJP Campaign)
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কেউ কেউ বিষয়টি জানিয়েছেন, অমিত শাহ বিষয়টি বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে জানাতে বলেছেন বলেও খবর। রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। দিলীপ ঘোষ-সহ বহু নেতাকে ফের দলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন। রাহুল সিনহার মতো পুরনো দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতাকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিয়েছেন। দলে তাঁর কোনও গোষ্ঠী তৈরি করেননি। ফলে প্রত্যেকে তার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সহজ-স্বাভাবিক। এখন দেখার এই সমস্যা কীভাবে তিনি মোকাবিলা করে নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।



