Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: AAIB-এর নতুন ব্ল্যাক বক্স ল্যাব দুর্ঘটনা ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করতে পারে (Black Box data recovered with NTSB kit), তবে এটি স্পষ্ট নয় যে তাঁরা আগেই এই ধরণের দুর্ঘটনার পরে তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য তৈরি ছিল কিনা।
১১ দিন পর মার্কিন কিট এসে পৌঁছায় (Black Box data recovered with NTSB kit)
গত মাসে আহমেদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়া এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ব্ল্যাক বক্স ডেটা উদ্ধার করা হয়েছে (Black Box data recovered with NTSB kit)। এই ডেটা উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিশেষ কিটের সাহায্যে, যা মার্কিন সরকারের ট্রান্সপোর্ট ক্র্যাশ তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) থেকে আনা হয়। ওই কিটটি ভারতে আসে দুর্ঘটনার ১১ দিন পর। এই ডেটা উদ্ধার করতে দেরি হওয়ায় অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগেও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিমানটির দুইটি ব্ল্যাক বক্স ২৪ জুন দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। যদিও দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয় ১৩ জুন, এবং অন্যটি ১৬ জুন।
এভিয়েশন অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, “২৩ জুন ২০২৫-এ ‘গোল্ডেন চ্যাসিস (একই ধরনের EAFR ইউনিট) ও ডাউনলোড কেবল’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের NTSB থেকে আনা হয়। এরপরই ডেটা ডাউনলোডের কাজ শুরু হয়।”
৯ কোটি টাকায় তৈরি অত্যাধুনিক ল্যাব, তবু প্রশ্ন রয়ে গেল (Black Box data recovered with NTSB kit)
AAIB-এর কাছে এখন একটি অত্যাধুনিক ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ ল্যাব রয়েছে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চালু করা হয়েছিল (Black Box data recovered with NTSB kit)। এই ল্যাবে দুর্ঘটনা বা ঘটনাবলীর ডেটা বিশ্লেষণ করা যায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এত আধুনিক ল্যাব থাকা সত্ত্বেও কেন এই দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ডেটা উদ্ধার করতে দেশের বাইরে থেকে যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে।
বিমানে ছিল দুটি ব্ল্যাক বক্স
এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানে দুটি Enhanced Airborne Flight Recorder (EAFR) ছিল। একটি বিমানের পিছনের দিকে এবং অন্যটি সামনের দিকে। এই দুটি রেকর্ডারে ককপিটের কথোপকথন ও ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা দুটোই সংরক্ষিত থাকে। ১৩ জুন প্রথম ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার হয় BJ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের ডাইনিং মেস বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে। সেটি ছিল পিছনের দিকের ব্ল্যাক বক্স এবং এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। প্রচলিত পদ্ধতিতে ডেটা ডাউনলোড করা যায়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ককপিট এরিয়া মাইক্রোফোন (CAM) খোলার পর দেখা যায়, মেমোরি কার্ডটিও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, সামনের দিকে থাকা EAFR ব্ল্যাক বক্সটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল, তবে সেটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি হোস্টেল বিল্ডিংয়ের চারটি স্তম্ভের মধ্যে সবচেয়ে দূরের একটির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ডেটার মধ্যে ছিল ৪৯ ঘণ্টার ফ্লাইট রেকর্ড
এই ব্ল্যাক বক্স থেকে যে ফ্লাইট ডেটা ডাউনলোড হয়েছে, তার মধ্যে ৪৯ ঘণ্টার ফ্লাইট তথ্য রয়েছে। তাতে মোট ৬টি ফ্লাইটের ডেটা মজুত ছিল, যার মধ্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফ্লাইটটির ডেটাও ছিল। অডিও ডেটা ছিল ২ ঘণ্টার, যা ঘটনাক্রম রেকর্ড করেছিল। AAIB জানিয়েছে, “রেকর্ড হওয়া অডিও ও ফ্লাইট ডেটার প্রাথমিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে।” তবে কেন দেশের আধুনিক ল্যাবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্ল্যাক বক্স ডেটা উদ্ধার সম্ভব হল না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।


