Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভয়াবহ (Blind Faith Crime) পরিণতি! ঝাড়খণ্ডের এক ঘটনায় সামনে এল শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ । হাজারিবাগ জেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ‘নরবলি’ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনায় কিশোরীর ৩৫ বছরের মা, মায়ের প্রেমিক এবং নিজেকে তান্ত্রিক বলে দাবি করা এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর (Blind Faith Crime)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ মার্চ রাতে এই ঘটনা (Blind Faith Crime) ঘটে কুসুম্ভা গ্রামে। সেদিন সন্ধ্যায় রাম নবমী উপলক্ষে ‘মঙ্গলা জুলুস’ চলাকালীন নিখোঁজ হয়ে যায় ওই কিশোরী। পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ একটি স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুলের পিছনে বাঁশবনে তার দেহ উদ্ধার হয়।প্রথমে কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধনেশ্বর পাসোয়ান নামে এক ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মূল অভিযুক্ত কে? (Blind Faith Crime)
তবে তদন্ত এগোতে থাকলে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর (Blind Faith Crime) তথ্য। ঝাড়খণ্ডের ডিজিপি ও জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ২৬ মার্চ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনা ‘ভয়ঙ্কর’ এবং কুসংস্কারপ্রসূত।তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় এক মহিলা বছর পঞ্চান্নর শান্তি দেবী , যিনি ‘ভগতিন’ নামে পরিচিত এবং তান্ত্রিক চর্চার দাবি করেন, তিনিই মূল অভিযুক্ত। তিনিই কিশোরীর মাকে বোঝান যে, তাঁর ছেলের অসুস্থতা এবং পারিবারিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নরবলির মাধ্যমেই। এই জন্য একটি ‘কুমারী মেয়ে’ বলি দিতে হবে । শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়েকেই নিয়ে আসতে রাজি করানো হয় ওই মাকে।
তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ
পুলিশের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে ওই তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কিশোরীর মায়ের। তাকে বলা হয়েছিল, দুর্গাষ্টমীর দিন, অর্থাৎ রামনবমীর সময়েই এই ‘অনুষ্ঠান’ সম্পন্ন করতে হবে। ঘটনার রাতে, মা এবং তাঁর বছর চল্লিশের প্রেমিক ভীম রাম কিশোরীকে পুজোর অজুহাতে তান্ত্রিকের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রাথমিক কিছু আচার পালনের পর তাকে কাছের একটি বাঁশবনে নিয়ে যাওয়া হয়।এরপর পুলিশ জানিয়েছে, সেখানেই ভীম রাম শ্বাসরোধ করে কিশোরীকে হত্যা করে।
আরও পড়ুন: Election 2026: রূপার ‘ল্যাম্পপোস্ট’ বিতর্কে মুখ খুললেন লাভলী!
অভিযোগ, সেই সময় মেয়েটি ছটফট করলে তার পা চেপে ধরেছিল তাঁরই মা। আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ, তান্ত্রিক ওই কিশোরীর শরীরে নৃশংস অত্যাচার চালান। তার যৌনাঙ্গে একটি কাঠের লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যদিকে ভীম রাম তার মাথায় আঘাত করে রক্ত সংগ্রহ করে তথাকথিত ‘আচারবিধির’র জন্য। এরপর দেহটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে এবং আদালতে পেশ করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভীম রামের বিরুদ্ধে আগেও খুনের অভিযোগ রয়েছে, নিজের বৌদি-সহ আরও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।


