Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলায় ফের একবার নাড়িয়ে দিল বিএলও -র মৃত্যুর ঘটনা (BLO Suicide)। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভা এলাকার রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার হল এক বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম হারাধন মণ্ডল। তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং একই সঙ্গে বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার ২০৬ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্বও পালন করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার কথাই সামনে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কাজের অত্যাধিক চাপের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রশাসনিক দায়িত্ব ও শিক্ষকের জীবনের দ্বৈত চাপ (BLO Suicide)
হারাধন মণ্ডল পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর কাঁধে পড়েছিল বিএলও-র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ভোটার তালিকা সংশোধন, শুনানি, নথিপত্র যাচাই সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাজের চাপ ছিল প্রবল। বিশেষ করে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। পরিবারের দাবি, এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য কোনও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। কখনও এক নির্দেশ, আবার পরের দিন সেই নির্দেশই বদলে যাচ্ছে এই অনিশ্চয়তা ও দায়বদ্ধতার ভারই ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল তাঁকে।
বাড়ি থেকে স্কুল পর্যন্ত শেষ যাত্রা (BLO Suicide)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকাল প্রায় দশটা নাগাদ হারাধন মণ্ডল বাড়ি থেকে বের হন। তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, নিজের বুথের কয়েকজন ভোটারের শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে খোঁজ করতে করতে তাঁরা পৌঁছন রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেই স্কুলের একটি ক্লাসরুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান হারাধনের। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।

সুইসাইড নোটে যন্ত্রণার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি (BLO Suicide)
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেই নোটে হারাধন মণ্ডল লিখে গিয়েছেন, “আমি আর চাপ নিতে পারছি না। বিদায়।” “এই কাজের জন্য আমিই দায়ী। এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ নেই।” “সব ঠিক করেও আমি ভুল করলাম। ক্ষমা কর আমাকে।” এই কয়েকটি বাক্যই যেন তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
ট্রেনিং নেই, অথচ দায় সীমাহীন (BLO Suicide)
মৃত বিএলও-র ছেলে সোহম মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, “বাবা এসআইআর-এর চাপ নিতে পারেনি। প্রচুর কাজের চাপ ছিল। কোনও ট্রেনিং নেই, কিছু নেই। আজ বলছে এই কাজ করলে হবে, কাল বলছে ভুল। এই মানসিক চাপই বাবাকে শেষ করে দিল।” পরিবারের দাবি, প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত বোঝা ও নির্দেশের অস্পষ্টতাই হারাধন মণ্ডলকে চরম মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুন: US Flight: একদিনেই বাতিল হাজারের বেশি উড়ান: ভ্রমণ মরসুমে আমেরিকায় চরম যাত্রী দুর্ভোগ
উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা
এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। বারবার একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে—অত্যাধিক কাজের চাপ, প্রশাসনিক বিভ্রান্তি এবং মানসিক সহায়তার অভাব।



