Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯৯৫ সালে মুক্তি (Bollywood) পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ( Dilwale Dulhania Le Jayenge) আজও বলিউডের প্রেমকাহিনির মাইলফলক। রাজ আর সিমরনের প্রেম কাহিনি এখনও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু মুক্তির তিন দশক পর এই ছবিকে ঘিরে নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ছবির খলনায়ক কুলজিৎ সিংহের চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা পরমীত সেঠী (Parmeet Sethi) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন— রাজই আসলে ছবির ‘ভিলেন’। বহু বছর পর ছবির চরিত্র নিয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ দিয়ে ভাবা হচ্ছে।
অন্য ভাবে ব্যাখ্যা (Bollywood)
পরমীত সেঠীর(Bollywood) মতে, কুলজিৎ চরিত্রটি ভুল বোঝা হয়েছে। তাঁর মতে, ডিডিএলজে ছবিতে কুলজিৎ তো কোনও দোষই করেনি। শাহরুখের (Shah Rukh) চরিত্র ‘ রাজ’ই তো এসে তাঁর বাগদত্তাকে নিয়ে চলে যায়। সে তো যাইনি কারও পিছনে।
অভিনেতার যুক্তি, গল্পটি যদি কুলজিতের চোখ দিয়ে দেখা হয়, তাহলে রাজের কাজই খলনায়কোচিত মনে হয়। রাজ বিদেশ থেকে এসে এক বাগদত্তা মেয়েকে তার প্রেমে ফেলে, পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে— যা কোনওভাবেই নায়কোচিত নয়।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া (Bollywood)
পরমীতের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল (Bollywood) আলোচনা। অনেকেই তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক নেটাগরিক মনে করছেন, রাজ তো বারবার অন্যের বাগদত্তাকে নিয়ে পালিয়েছে! একজন মন্তব্য করেছেন, ‘পরদেস’ আর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ছবিতেও শাহরুখ একই কাজ করেছিলেন। আরেক জনের মতে, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-তেও শাহরুখ সলমন খানের বাগদত্তা অঞ্জলিকে শেষমেষ বিয়ে করেছিল। এমনকি কেউ কেউ ‘বীর জারা’-র (Veer-Zaara) উদাহরণ টেনে বলেন, রাজ নয়, শাহরুখের চরিত্রদের অনেক সময়ই সমাজের চোখে ‘ভিলেন’ ভাবা যায়।
চলচ্চিত্রের দৃষ্টিকোণ (Bollywood)
তবে সমালোচকদের মতে, ডিডিএলজে-র শক্তি এখানেই— প্রত্যেকে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পকে ব্যাখ্যা করতে পারেন। পরিচালক আদিত্য চোপড়া রাজকে দেখিয়েছিলেন এক প্রেমিক হিসেবে, যে প্রথাগত বিয়ের শৃঙ্খল ভেঙে নিজের ভালোবাসাকে জয় করতে চায়। কিন্তু কুলজিতের চোখে সেটি ছিল বিশ্বাসঘাতকতা। এই দ্বৈততা নিয়েই আজও আলোচনা চলে, যা প্রমাণ করে ছবির প্রভাব কত গভীর।
নতুন দৃষ্টিকোণ
পরমীত সেঠীর (Parmeet Sethi) বক্তব্যে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে দর্শক কেবল গল্প নয়, চরিত্রদেরও নতুন ভাবে মূল্যায়ন করছে। ‘রাজ’ এখন শুধুই রোমান্টিক হিরো নয়, অনেকের কাছে নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি এক মানুষও। তবে একথা অস্বীকার করা যায় না— ৩০ বছর পরেও ডিডিএলজে এখনও প্রেম, বিতর্ক এবং স্মৃতির প্রতীক হয়ে আছে।
আরও পড়ুন: Donald Trump: দ্বিতীয় ইনিংসেই কড়া অভিবাসন নীতি! আমেরিকা জুড়ে শুরু ধরপাকড়
নিখাদ প্রেমকাহিনী
পরমীত ছবির ভাবনা বা পরিচালক আদিত্য চোপড়ার দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করছেন না। বরং এই ছবিকে তিনি প্রেমের এক উদ্যাপন হিসেবে দেখেন, যা দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল জায়গা করে নিয়েছে। রাজের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এক নিখাদ প্রেমকাহিনি; কিন্তু কুলজিতের চোখে এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প, বলে মনে করেন তিনি।
এই বিশ্লেষণ প্রকাশ্যে আসার পর ডিডিএলজে-প্রেমীরা নতুন করে আলোচনায় মেতে উঠেছেন। অনেকেই বলছেন, পরমীতের মন্তব্য ছবিটিকে এক নতুন ব্যাখ্যার দরজা খুলে দিয়েছে,যেখানে নায়ক ও খলনায়কের সীমারেখা আর ততটা স্পষ্ট নয়।


