Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গুজরাটের বনসকাঁঠা জেলার একটি নৃশংস ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Gujarat)। অভিযোগ, বাবার সহায়তায় নিজের মেয়েকে খুন করেছেন এক কাকা, শুধু প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে। পুলিশ ইতিমধ্যে মৃত তরুণীর কাকা শিবরামভাই প্যাটেলকে গ্রেপ্তার করেছে, আর বাবা সেন্ধাভাই প্যাটেল এখনো পলাতক।
মৃত তরুণীর নাম চন্দ্রিকা চৈধুরী (বয়স আনুমানিক ১৯-২০)। মেধাবী এই ছাত্রী সম্প্রতি NEET পরীক্ষায় ৪৭৮ নম্বর পেয়ে উত্কৃষ্ট ফল করেছিলেন, যা দিয়ে দেশের যেকোনো সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
স্বাধীন জীবনযাপনে আপত্তি পরিবারের (Gujarat)
চন্দ্রিকা ছিলেন স্বাধীনচেতা ও নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে সাহসী। তিনি প্রেমিক হরেশ চৌধুরীর সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন এবং কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু এই সম্পর্ক ভালো চোখে দেখেনি তাঁর পরিবার। গ্রামের সামাজিক রীতি, ‘সম্মান’ এবং পারিবারিক চাপে চন্দ্রিকার ব্যক্তিগত পছন্দকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
কাকার উস্কানি, বাবার পরিকল্পনা (Gujarat)
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে কলেজে গিয়ে কাকা শিবরামভাই চন্দ্রিকা ও হরেশকে একসঙ্গে পড়তে দেখেন। এরপর তিনি সেন্ধাভাইকে বলেন— “মেয়েকে এখানে পড়তে পাঠানো উচিত নয়।” অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার পর থেকেই পরিবার চন্দ্রিকাকে বাড়িতে আটকে রাখে।
মৃত্যুর আগের ভয়াবহ বার্তা (Gujarat)

ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চন্দ্রিকা প্রেমিককে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন—
“আমাকে নিয়ে যাও, নাহলে ওঁরা আমার বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি রাজি না হলে মেরে ফেলবে। বাঁচাও আমাকে।”
এই বার্তা এখন FIR-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
FIR অনুযায়ী, হত্যার দিন সেন্ধাভাই প্রথমে দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মেয়েকে দেন, এবং আশ্বাস দেন—
“দুধ খেয়ে ভালো করে বিশ্রাম কর। ঘুমোলে শরীর চাঙ্গা হয়ে যাবে।”
চন্দ্রিকা অচেতন হয়ে পড়ার পর বাবা সেন্ধাভাই ও কাকা শিবরামভাই মিলে তাঁর গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা (Gujarat)
অভিযোগ, খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চন্দ্রিকার দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়, যাতে ময়নাতদন্ত বা অন্য কোনো প্রমাণ উদ্ধার করা না যায়। শিবরামভাই গ্রামবাসীদের কাছে মিথ্যা প্রচার করেন যে চন্দ্রিকার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।
প্রেমিকের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
প্রেমিক হরেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন যে, পরিবারের ভয়ে চন্দ্রিকা সবসময় আতঙ্কিত থাকতেন। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলিতে তিনি প্রতিনিয়ত আশঙ্কা করতেন যে পরিবার তাঁকে জোরপূর্বক বিয়ে দেবে বা খুন করবে।
আরও পড়ুন: Kolkata Police: পুলিশেরই উপর লাঠিচার্জ! গ্রেফতার এক!
দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ২১শ শতকে এসে একজন শিক্ষিত তরুণীর নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা কি এখনও পরিবারের ‘সম্মান’-এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?


