Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নবান্ন অভিযান নিয়ে মামলায় হাইকোর্টে(Calcutta HC) বড় ধাক্কা বিজেপির। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষের নবান্নের সামনে ধর্নার আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। অর্থাৎ সর্বাধিক ৫০ জনকে নিয়ে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে এবং অন্যান্য দেওয়া শর্তসাপেক্ষে ধর্না দেওয়ার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল থাকল।
হাইকোর্টে নবান্নে ধর্নার আবেদন বিজেপির(Calcutta HC)
আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাসির সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ফাইল, নথি সরানোর অভিযোগের ঘটনায় সরব হয়ে গত ১৬ জানুয়ারির নবান্নের সামনে ধর্না বসার ডাক দেয় বিজেপি। পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টের(Calcutta HC) দারস্থ হয় বিজেপি। অনুমতি চেয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলা দায়ের করেন বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ।
নবান্নর সামনে ধর্নায় আপত্তি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের(Calcutta HC)
গত ১৪ জানুয়ারি মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নবান্নর সামনে বিজেপির ধর্না নিয়ে স্পষ্ট আপত্তি জানান। বিচারপতি নবান্ন বাসট্যান্ড বা মন্দিরতলায় ধর্না কর্মসূচি করার পরামর্শ দেন। বিচারপতি ঘোষ বলেন, নবান্ন একটি প্রশাসনিক ভবন। সেখানে ধর্না দিলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বা যানজট সৃষ্টি হতে পারে। ফলে ওই জায়গায় ধর্নার অনুমতি দেয় সম্ভব নয়। ১৫ তারিখ বিজেপি-কে জানাতে বলা হয় তারা মন্দিরতলায় ধর্নায় বসতে রাজি কি না। ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে মন্দিরতলা বাস স্ট্যান্ডে ধর্নায় বসার অনুমতি দেন।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশনা
আদেশে বলা হয়, ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে এই ধরনের বিক্ষোভ করা যাবে।বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিধায়কদের সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হওয়া চলবে না। যদি বিক্ষোভের জন্য কোনও মঞ্চ তৈরি করতে হয় তবে তা ১২ ফুট বাই ১৫ ফুটের বেশি করা যাবে না। ধর্নার কারণে জনসাধারণের জন্য বা অবাধে যানবাহন চলাচলে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না। ধর্না কর্মসূচি থেকে কোনও উস্কানিমূলক বক্তব্য বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন: CBI Raid: এক হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, ভোররাতে কলকাতায় সিবিআই তল্লাশি
মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে ধর্নার শর্তসাপেক্ষ অনুমতি(Calcutta HC)
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভে কোনও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। শব্দ দূষণ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কমপক্ষে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম এবং তাঁদের মোবাইল নম্বর দ্রুত পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। বিক্ষোভ চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য এই স্বেচ্ছাসেবকরা দায়ী থাকবেন। শান্তি ভঙ্গের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে জায়গা খালি করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্নাস্থল পরিষ্কার করে তার আসল অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আরও পড়ুন: Nazirabad Fire: নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ, জারি ১৬৩ ধারা
সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ই বহাল
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বিজেপির আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ই বহাল থাকল।


