Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : এসএসসি-এর (SSC Case) নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে চেয়ে চিহ্নিত ‘দাগি’ বা অযোগ্যদের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court )। এসএসসি প্রকাশিত অযোগ্যদের তালিকায় কোনও হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট। উল্টে মামলাকারী অযোগ্যদের তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এসএসসির তালিকায় হস্তক্ষেপ করার জন্য এটি উপযুক্ত মামলা নয়। পরীক্ষায় বসতে পারবেন না মামলাকারী ‘দাগি’রা।
শুধু তাই নয়, মামলাকারী অযোগ্যদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের প্রশ্ন, ‘এত দিন কোথায় ছিলেন? তালিকা প্রকাশ হতেই আদালতে চলে এলেন! যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশের পরে আপনারা কীভাবে বলতে পারেন যে আপনারা দাগি বা অযোগ্য নন?’
প্রশ্নের মুখে পড়েন মামলাকারী অযোগ্যরা (SSC Case)
মঙ্গলবার বিচারপতি ভট্টাচার্য্যের (SSC Case) একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েন মামলাকারী অযোগ্যরা। বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আপনারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে গিয়েছিলেন? যদি স্কুলে না গিয়ে থাকেন, তাহলে আগেই কেন আদালতে আসেননি?গত ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে আপনারা স্কুলে যেতে পারেননি। তাহলে এখন কেন আবেদন করেছেন?’
মামলাকারীদের বক্তব্য (SSC Case)
গত শনিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৮০৬ জনের অযোগ্য বা চিহ্নিত দাগি শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC Case)। এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁরা ৭ ও ১৪ তারিখের নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় কমিশন। তারপরই ওই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গতকাল তথা সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ‘দাগি অযোগ্যে’রা। তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার আবেদন জানান মামলাকারীরা। মামলাকারীদের বক্তব্য, তাঁরা যে ‘দাগি’, তা কে ঠিক করে দিল? কিসের ভিত্তিতে তাঁদের ‘দাগি’ বলা হচ্ছে?
মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি
এদিন সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সাদা খাতা জমা দিয়ে, প্যানেল বহির্ভূত এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ- এই তিন ক্যাটেগরিতে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদেরই চিহ্নিত দাগি বা অযোগ্য বলে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীরা এই ‘ক্যাটেগরি’তে পড়েন না। এবং তাঁরা কেউ সাদা খাতা জমা দেননি বলেই দাবি করেন তাঁদের আইনজীবী।
কমিশনের আইনজীবীর দাবি
শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, মামলাকারীদের সকলেই দাগি বা অযোগ্য। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ে তর্কের কোনও অবকাশ নেই। এদের সকলের বিরুদ্ধে ওএমআর শিট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। সিবিআই যে তালিকা উদ্ধার করেছিল, তার সঙ্গে এসএসসি মিলিয়ে দেখেছে। এরা সকলেই ওএমআর শিট কারচুপি করে এবং র্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন।’
আরও পড়ুন : Weather Update: স্কোয়াল ফ্রন্ট! গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা?
মামলাকারী অযোগ্যদের তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির
এসএসসি-এর বক্তব্য শুনে মামলাকারী অযোগ্যদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। তিনি মামলাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপনাদের স্কুলে যেতে কেন দেওয়া হয়নি, তার উত্তর আগে দিন? তখন আপনারা কী করছিলেন? তখন এসএসসি-কে গিয়ে কেন বলেননি?’
মামলাকারীদের আইনজীবী তার উত্তরে বলেন, ‘তখন যোগ্য-অযোগ্যর তালিকা কোথায়? আমার মক্কেলদের কীসের ভিত্তিতে অযোগ্য হিসেবে ধরা হল? সব তালিকা কেন আগে প্রকাশ হল না? যদি অযোগ্যই হয়, তাহলে কেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছিল? অ্যাডমিট কার্ড দিয়েও কেন বাতিল করা হল? এই সিদ্ধান্তকেও আমরা চ্যালেঞ্জ করছি।’
আরও পড়ুন : SSC Case : অযোগ্যদের তালিকায় এত নাম কম কেন? সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের উত্তরে কারণ জানাল এসএসসি
তার উত্তরে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিবিআই তদন্ত করে বলছে ওএমআর শিট কারচুপি করা হয়েছে। তারা আমাদের যে তথ্য দিয়েছে, আমরা সেটা গ্রহণ করেছি। সেই হিসাবেই এঁরা সকলে অযোগ্য। কারচুপি হয়েছে। ফলে কোন প্রার্থীকে কত নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা এখন অপ্রাসঙ্গিক।’
সবপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য মামলা খারিজ করে দেন।


