Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ৯ আগস্টের নবান্ন অভিযানে সম্মতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নবান্ন অভিযানের বিরোধিতা করে মামলাকারীর আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ(Calcutta High Court)। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ কর্মসূচির যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, সেগুলো বলবৎ করতে পারবে প্রশাসন। প্রয়োজনে প্রশাসন প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দিতে পারবে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে হবে। কোনভাবেই হিংসায় উস্কানি দেওয়া যাবে না। পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের কোনও রকম ভাবে আঘাত করা যাবে না। সরকারি সম্পত্তি, ভবন, সংস্থার কোনও রকম ক্ষয়-ক্ষতি করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।
নবান্ন অভিযানের ডাক ৯ আগস্ট (Calcutta High Court)
আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ৯ আগস্ট। সেই উপলক্ষে ওইদিন নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা (Calcutta High Court)। সেই অভিযানে দলীয় পতাকা ছেড়ে যোগ দেবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। এই নবান্ন অভিযানের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়ে গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এই কর্মসূচির ফলে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করে হাওড়ার এক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা করেন।
জনস্বার্থ মামলার শুনানি ডিভিশন বেঞ্চে (Calcutta High Court)
বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চে (Calcutta High Court)। কেন এই অভিযানের বিরোধিতা করা হচ্ছে, তা আদালতের সামনে তুলে ধরেন মামলাকারীর আইনজীবী এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। মামলা বাড়ির আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, ‘নবান্ন সংলগ্ন এলাকায় অনেক স্কুল, দোকান ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অতীতে এই ধরনের কর্মসূচিকে ঘিরে অনেক অশান্তি হয়েছে। জনজীবন কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে। হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। আগামী শনিবারের নবান্ন অভিযানকে ঘিরেও এরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায় উদ্যোক্তা নেন না। তাই এই ধরনের কর্মসূচিতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।’
আরও পড়ুন: US Tariff Impact : ভারতের উপর মার্কিন শুল্কের কতটা প্রভাব পড়বে? কোন কোন ক্ষেত্রে কতটা ক্ষতি?
নবান্ন অভিযানকে ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা (Calcutta High Court)
শনিবারের নবান্ন অভিযানকে ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করেছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত (Calcutta High Court)। এদিন শুনানিতে এজি অতীতের নবান্ন অভিযানকে ঘিরে হিংসার ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘গত নবান্ন অভিযানেও ব্যাপক অশান্তি হয়েছিল। ৪৭ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছিলেন। একজন পুলিশ কর্মীর তো চোখ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। সে বাড়ির কর্মসূচিতে অশান্তি ও হিংসার ঘটনায় ১৪০ জনের বেশি অভিযানকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমরা সেই রকম হিংসার আর পুনরাবৃত্তি চাই না। সেই কারণেই রাজ্য ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য একটা নির্দেশিকা তৈরি করেছে। যাতে যে কেউ যেখানে খুশি যেন প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে না পারে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন (Calcutta High Court)
এজি আরও বলেন, ‘অতীতের এই ধরনের কর্মসূচির দায় কেউ নিতে চায় না। গতবার ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল (Calcutta High Court)। কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে পায়নি। এবারের নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন চেয়েছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এই অভিযানকে সমর্থন করে অংশ নেওয়ার কথাও বলেছেন। অতএব, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার যে এবারের নবান্ন অভিযান কর্মসূচির নেপথ্যে রয়েছেন তিনজন ব্যক্তি।’
এই মামলা চূড়ান্ত শুনানি শেষ হলেও কমপক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায়দান আপাতত স্থতিত রেখেছেন বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই মামলার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট।


