Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জগৎকে যিনি ধারণ করেন, তিনিই দেবী জগদ্ধাত্রী (Chandannagar Jagaddhatri Puja)। তাঁর রূপ অপরূপ বিশাল দেহ, টানা চোখ, ত্রিনয়ন, আর চার হাতে অসুর সংহারের অস্ত্র। সিংহবাহিনী এই দেবী শক্তির প্রতীক, যিনি মায়া ও অন্ধকারের বিনাশ ঘটান।
আলোর শহরের দেবীপূজা (Chandannagar Jagaddhatri Puja)
চন্দননগর, যাকে বলা হয় “আলোর শহর” সেখানে জগদ্ধাত্রী পুজো এক অনন্য উৎসব। দুর্গাপুজোর মতোই পাঁচদিন ধরে চলে এই পুজো। শহরের প্রতিটি রাস্তা আলোয়, রঙে, আর সঙ্গীতে ভরে ওঠে। সোনার–রুপোর অলঙ্কারে সজ্জিত সুউচ্চ মাতৃমূর্তি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠেন।

পুজোর সূচনা নিয়ে বিতর্ক (Chandannagar Jagaddhatri Puja)
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কবে ও কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। ইতিহাস ও জনশ্রুতির মিলনে এই পুজোর জন্ম কাহিনি আজও রোমাঞ্চকর রহস্যে ভরা।
দেবীর স্বপ্নাদেশ (Chandannagar Jagaddhatri Puja)
একটি মত অনুযায়ী, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র-এর আমলেই চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা।
১৭১০ সালে নবাবের হাতে বন্দি হন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। সেই সময় দুর্গাপুজোয় মায়ের দর্শন না পেয়ে মনোবেদনায় কাতর হন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজা স্বপ্নে দেবী জগদ্ধাত্রীর আদেশ পান কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে চতুর্ভূজা রূপে তাঁর আরাধনা করতে হবে। কারামুক্ত হয়ে রাজা সেই আদেশ অনুসারে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন।

ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর উদ্যোগ (Chandannagar Jagaddhatri Puja)
আরেকটি মতে, পুজোর সূত্রপাত হয় ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী-র হাত ধরে। তিনি ছিলেন ফরাসি সরকারের দেওয়ান এবং রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠজন। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জের চাউলপট্টি অঞ্চলে নিজ বাড়িতে পুজো শুরু করেন ইন্দ্রনারায়ণ। যদিও ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ আছে কারণ ইন্দ্রনারায়ণের মৃত্যু হয়েছিল ১৭৫৬ সালে, তখন এই পুজো আদৌ শুরু হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত নয়।
দাতারাম শূর ও গৌরহাটির পুজো (Chandannagar Jagaddhatri Puja)
অন্য এক মত অনুসারে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান দাতারাম শূর-এর পরিবারেই জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা ঘটে। গৌরহাটি অঞ্চলে দাতারামের বিধবা কন্যা আনুমানিক ১৭৬২ সালে বাড়িতে পুজো শুরু করেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই পুজোতেও আর্থিক অনুদান দিতেন বলে জনশ্রুতি। পরবর্তীতে পুজোটি স্থানান্তরিত হয় বর্তমান শিবতলা অঞ্চলে এবং স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় তা আজও টিকে আছে তেঁতুলতলার পুজো নামে।
আরও পড়ুন: Jagaddhatri Puja: এই পুজো কি সত্যিই চন্দননগরেই শুরু হয়েছিল? জানা আছে এর উৎস?
আজকের জগদ্ধাত্রী পুজো
আজ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয় এটি এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আলোকসজ্জা, থিম মণ্ডপ, আর সুরের মেলবন্ধনে শহরটি যেন রূপ নেয় এক স্বপ্নরাজ্যে। এই পুজো প্রমাণ করে বাংলার মাটিতে বিশ্বাস, শিল্প, ও ঐতিহ্যের সংযোগ কতটা গভীর



