Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জগদ্ধাত্রী পুজো এলে চন্দননগর হয়ে ওঠে আলোর শহর (Chandannagar)। হাজারো রঙে, আলোয় ও নকশায় সেজে ওঠে রাস্তা, অলিগলি, প্যান্ডেল। প্রতিমার রূপ থেকে আলোকসজ্জা সব কিছুই মন কাড়ে দর্শনার্থীদের। কিন্তু ঠাকুর দেখা যেমন জরুরি, তেমনি পেটপুজোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে যদি খিদে চাপে, চিন্তা নেই চন্দননগরেই রয়েছে একের পর এক নামজাদা রেস্তরাঁ।

ঐতিহ্যের স্বাদ কোথায়? (Chandannagar)
চন্দননগরের নাম শুনলে প্রথমেই মনে আসে ‘সূর্য কুমার মোদক’। প্রায় একশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই মিষ্টির দোকান আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এখানে গেলে অবশ্যই চেখে দেখতে হবে জলভরা সন্দেশ, যা এক কথায় অনন্য। পাশাপাশি রয়েছে ক্ষীরপুলি, বেকড রস মাধুরী যার স্বাদ একবার মুখে দিলে সহজে ভুলবেন না।
ভাসমান রেস্তরাঁ (Chandannagar)
চন্দননগরের অন্যতম আকর্ষণ হল গঙ্গাবক্ষে ভাসমান রেস্তরাঁ। নদীর বাতাস, চারপাশের আলো, আর সুমধুর সঙ্গীতে জমে ওঠে খাওয়াদাওয়া। এখানে বাঙালি থেকে শুরু করে কন্টিনেন্টাল সব রকমের খাবারেরই আয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই হয়ে উঠুক ডিনার এক অন্য অভিজ্ঞতা।

‘ভূতের রাজা দিল বর’ (Chandannagar)
নামেই রয়েছে রহস্যের ছোঁয়া ‘ভূতের রাজা দিল বর’। কিন্তু ভিতরে ঢুকলেই মিলবে একেবারে ঘরোয়া বাঙালি রান্নার স্বাদ। ভাত, ডাল, মাছের ঝোল, চিংড়ি মালাইকারি সব কিছুই এখানে সুললিত পরিবেশে পরিবেশন করা হয়। দু’জনের জন্য কমপক্ষে ₹১০০০ খরচ ধরেই চলুন। স্বাদে ও পরিবেশে কিন্তু খুশি হবেন নিশ্চিত।
আমার বাংলা (Chandannagar)
নীলকান্ত সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত ‘আমার বাংলা’ হল সেই জায়গা, যেখানে অল্প খরচেই মিলবে ঘরোয়া অথচ তৃপ্তিকর খাবার। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, ভাজা সব কিছুই এখানে মজাদারভাবে পরিবেশিত হয়। পর্যটকদের কাছে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তার পকেটসই দামের জন্যই।
চাইনিজ় ও সি-ফুড প্রেমীদের জন্য (Chandannagar)
‘মিত্র ক্যাফে’ কেবল নামেই নয়, স্বাদেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে বাঙালি খাবারের পাশাপাশি রয়েছে চাইনিজ় ও সি-ফুডের দারুণ আয়োজন। ক্রিস্পি প্রন, থাই ফ্রাইড রাইস, চিকেন হাক্কা নুডলস প্রতিটি পদই আলাদা করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফিউশন ফ্লেভারের আড্ডাখানা
চন্দননগরের আধুনিক মুখ ‘বং কানেকশন’। এখানে বাঙালি, চাইনিজ়, কন্টিনেন্টাল তিন ঘরানার খাবারই এক ছাদের নিচে পরিষ্কার, সুন্দর পরিবেশ ও সুলভ দাম এটিকে তরুণদের প্রিয় আড্ডাস্থল করেছে।
চটজলদি পেটভরা (Chandannagar)
হালকা ক্ষুধা পেলে চলে যান ‘ক্যাফে ডেস্টিনেশন’-এ। স্যান্ডউইচ, পাস্তা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই সবই পাওয়া যায় মিনিটের মধ্যে।দামও খুব বেশি নয়, তাই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ফাঁকে আদর্শ জায়গা।
বাঁশের কেল্লা ও রয়াল বিরিয়ানি
যারা বিরিয়ানি ছাড়া বাঁচতেই পারেন না, তাদের জন্য রয়েছে দুটি সেরা ঠিকানা, ‘বাঁশের কেল্লা’: এখানে পাবেন হান্ডি চিকেন, এগ চিকেন, ক্রিস্পি চিকেন, সঙ্গে ঠান্ডা মোহিতোর দারুণ স্বাদ।‘রয়াল বিরিয়ানি’: নামেই যেমন রাজকীয়তা, স্বাদেও তেমনই সমৃদ্ধ। বিরিয়ানি প্রেমীদের হতাশ করবে না কখনওই।
আরও পড়ুন: Jagaddhatri Puja: এই পুজো কি সত্যিই চন্দননগরেই শুরু হয়েছিল? জানা আছে এর উৎস?
একটু ভিন্ন স্বাদের খোঁজে
যদি চান একটু অন্য স্বাদে খেতে, তাহলে ‘রেড চিলি’ আপনার জন্য সঠিক জায়গা। নর্থ ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ় ফিউশন ডিশ এখানকার বিশেষত্ব। পরিমাণে বেশি, দামে মাঝারি, আর স্বাদে দুর্দান্ত এই হল এর জনপ্রিয়তার রহস্য।



