Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজ্যের প্রথম বিজনেস কনক্লেভ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প তথা মনরেগার নাম পরিবর্তন এবং গান্ধীজীর নাম মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সরব হন তিনি। একই সঙ্গে ঘোষণা করেন, রাজ্যের কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম মহাত্মা গান্ধীর নামে পুনর্নামকরণ করা হবে।
‘গান্ধীহীন’ করার অভিযোগ (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে গান্ধীজীর নাম মুছে ফেলার পথে হাঁটছে। তাঁর কথায়, “গান্ধীজির নামে প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এটা শুধু নাম বদল নয়, এটা ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা।” মনরেগা শুধু একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়, গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড এই প্রকল্পের সঙ্গে গান্ধীজীর নাম যুক্ত থাকা ঐতিহাসিক ও নৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে বাংলা (Mamata Banerjee)
বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা বন্ধ, সর্বশিক্ষা অভিযানের অর্থ আটকে রাখা, এই সমস্ত সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক আচরণেরই প্রতিফলন। তাঁর মতে, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অর্থ বন্ধ রেখে বাংলাকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
কর্মশ্রী প্রকল্পে গান্ধীর নাম (Mamata Banerjee)
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পাল্টা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও আদর্শগত প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “যাঁর আদর্শে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁর নাম মুছে দেওয়া বাংলায় চলবে না।”
শিল্প সম্মেলনেও রাজনৈতিক বার্তা (Mamata Banerjee)
কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিজনেস কনক্লেভে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের সামনে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁর সরকারের আমলে কীভাবে বাংলার শিল্প মানচিত্র বদলেছে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে উন্নয়নের আলোচনা থেকেও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দিতে ভোলেননি তিনি।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: নিউটাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!
বাংলাকে ‘ম্যানেজ’ করা যায়নি
মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ইংরেজরাও বাংলাকে ম্যানেজ করতে পারেনি। তাই রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।” তাঁর মতে, আজও বাংলাকে ‘হিংসা’ করা হচ্ছে এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বক্তৃতার শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি, কিন্তু বাংলায় দয়া করে বিভাজন করবেন না।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনসমক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।



