Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে শিলিগুড়ি করিডোর বা বহুল পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ যেন এক অনিবার্য অক্ষ (Chickens Neck)। মাত্র বাইশ কিলোমিটারের সরু এই ভূখণ্ড ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশকে যুক্ত রাখে। এর ভৌগোলিক সঙ্কীর্ণতা যেমন বিস্ময়, তেমনই এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। একদিকে চীন, অন্যদিকে বাংলাদেশ দু’দিক থেকেই এই করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অমূলক নয়। আর সেই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যে দ্রুত প্রতিরক্ষা-কৌশলগত পুনর্বিন্যাস করেছে, তা গোটা উপমহাদেশের ক্ষমতার রূপরেখা পাল্টে দিতে সক্ষম।

চিকেনস নেকের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব (Chickens Neck)
ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি করিডোর অনেকটা যেন দেহের শিরা। এই শিরাই ভারতের সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষের বসতভূমি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল অংশের প্রাণবিন্দুর সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। করিডোরটি যদি কোনও শত্রুর হাতে আটকে যায়, তবে এক লহমায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে উত্তর-পূর্ব। চীন বহুদিন ধরেই এই অঞ্চলকে ভারতের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখেছে, আর তাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভূকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই করিডোরে নজরদারি। বাংলাদেশ থেকেও ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই সরু করিডোর কার্যত ভারতের অখণ্ডতার প্রতীক তাই এর প্রতি কোনও মনোভাব বা মন্তব্য দিল্লির কাছে নিছক কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম মূল প্রশ্ন।
নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ (Chickens Neck)
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দ্রুতই নতুন পথে মোড় নেয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার থেকে ‘চিকেনস নেক’ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য, এরপর চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সব মিলিয়ে উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পটভূমিতে উদ্বেগ বাড়ায়। চীনের সঙ্গে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা,
পাকিস্তানের দেয়া জেএফ-১৭ ব্লক সি যুদ্ধবিমান, এবং চীনের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়ন এসব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। নয়াদিল্লি উপলব্ধি করে যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিকে দ্রুত সুরক্ষা ছাতার অধীনে আনতে হবে।
তিন নতুন সামরিক ঘাঁটি (Chickens Neck)
পরিস্থিতির জটিলতায় ভারত আর বিলম্ব করেনি। বিহারের কিষানগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া, এবং অসমের ধুবড়ি এই তিন স্থানে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ জওয়ান; তাদের সঙ্গে রয়েছে প্যারা স্পেশাল ফোর্স, গোয়েন্দা ইউনিট, এবং র্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট ফোর্স। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চোপড়া ঘাঁটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে। এর ফলে নজরদারি, দ্রুত সেনা মোতায়েন, এমনকি সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধ সবকিছুতেই ভারতের কৌশলগত অবস্থান শক্ত হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলোর বিন্যাসে ভারত পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে চিকেনস নেক আর দুর্বলতা নয়, বরং মজবুত প্রতিরক্ষা ঢাল।

করিডোরে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ (Chickens Neck)
ভারত শুধু নতুন ঘাঁটিতেই থেমে থাকেনি। শিলিগুড়ি করিডোর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আধুনিকতম সামরিক শক্তি মোতায়েনের মাধ্যমে গোটা করিডোরকে ‘হাই-সিকিওরিটি জোন’-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে। রাফাল যুদ্ধবিমান, ব্রাহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, অতি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সীমান্ত ড্রোন নজরদারি, এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার পরিসর বিস্তার এই সবই মিলে ভারতকে প্রতিরক্ষামূলক মনোভাব থেকে সরিয়ে এনে সক্রিয় শক্তি প্রদর্শনের অবস্থানে নিয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতীয় নিরাপত্তা নীতির একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
আরও পড়ুন: Cyclone Ditwah: ঘূর্ণিঝড় দিটওয়া স্থলভাগে ঢুকবে না, সমুদ্রপথেই উপকূল ছুঁয়ে উত্তরের দিকে অগ্রসর
ঢাকার প্রতি প্রতীকী ও বাস্তব বার্তা
প্রতিবেশী কোনও দেশের সঙ্গে ভারত চিরকালই শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে। কিন্তু যখন সেই প্রতিবেশী দেশ এমন কৌশলে এগোয় যা ভারতের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তখন প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে। শিলিগুড়ি করিডোরে ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক শক্তিবৃদ্ধি ঠিক সেরকমই এক কূটনৈতিক বার্তা, ভারত কোনও আগ্রাসী অবস্থানকে মেনে নেবে না; প্রয়োজন হলে সক্রিয় প্রতিরক্ষার পথে হাঁটবে। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং চীন ও পাকিস্তান দু’দেশের জন্যই স্পষ্ট ইঙ্গিত।



