Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের দক্ষতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত (China Planted)। বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ, সবচেয়ে বিস্তৃত হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক, সর্ববৃহৎ বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চীনের নাম শীর্ষে। শুধু আধুনিক নির্মাণ নয়, প্রাচীন স্থাপত্যের বিস্ময়কর নিদর্শনগুলিতেও চীন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করে রেখেছে। তবে এই বিপুল নির্মাণযজ্ঞের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও চীন যে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব দিয়ে আসছে, তা অনেকেরই অজানা।

‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ (China Planted)
পরিবেশ রক্ষার এই ভাবনা থেকেই ১৯৭৮ সালে চীন শুরু করে এক যুগান্তকারী প্রকল্প থ্রি-নর্থ শেল্টারবেল্ট প্রকল্প, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ নামে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর চীনে ক্রমবর্ধমান মরুকরণ ঠেকানো, মাটির ক্ষয় রোধ করা এবং ধূলিঝড়ের প্রকোপ কমানো। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রকল্প অবশেষে গত বছর সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে গাছ লাগিয়ে চীন তাদের বনভূমির পরিমাণ ১৯৪৯ সালের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পরিসংখ্যানের নিরিখে এটি নিঃসন্দেহে এক অভূতপূর্ব সাফল্য।
সবুজ বাড়লেও কমছে জল (China Planted)
কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর পরিবেশগত উদ্বেগ। সম্প্রতি আর্থ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই গবেষণাটি করেছেন তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়, বেইজিংয়ের চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি এবং নেদারল্যান্ডসের উটরেখ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত সবুজায়নের ফলে চীনের পূর্বাঞ্চলের মৌসুমি অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক অঞ্চলে জলসম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই দুই অঞ্চল মিলিয়ে চীনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৭৪ শতাংশ, ফলে পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

বনায়ন ও বদলে যাওয়া জলচক্র (China Planted)
গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রেট গ্রিন ওয়ালের পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া ‘গ্রেইন ফর গ্রিন প্রোগ্রাম’ এবং ন্যাচারাল ফরেস্ট প্রোটেকশন প্রোগ্রাম-এর মতো উদ্যোগও এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। বড় আকারে বনায়নের ফলে উদ্ভিদ থেকে জলীয় বাষ্প নির্গমন এবং মাটি থেকে জল বাষ্পীভবনের হার বেড়েছে যাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ইভাপোট্রান্সপিরেশন বলা হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনও বদলে গেছে। ফলে কোথাও জল বেড়েছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে তীব্র জলঘাটতি।
তিব্বত মালভূমিতে জল (China Planted)
গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত জলচক্রের ফলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা সরে গিয়ে জমা হয়েছে তিব্বত মালভূমির দিকে, যেখানে জলসম্পদ বেড়েছে। কিন্তু এর উল্টো প্রভাব পড়েছে পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম চীনে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে জলঘাটতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হল তৃণভূমিকে বনভূমিতে রূপান্তর করা বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়ালেও, সামগ্রিকভাবে জল ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Pollution: শীতের ঘাটতিতে বাড়ছে দূষণ, ভোরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ কলকাতায়
জনসংখ্যা বনাম জলসম্পদ
সমস্যা আরও জটিল কারণ চীনের উত্তরাঞ্চলে দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ বাস করে এবং এখানেই রয়েছে অধিকাংশ আবাদযোগ্য জমি। অথচ এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দখলে রয়েছে দেশের মোট জলসম্পদের মাত্র ২০ শতাংশ। ফলে বনায়নের সুফল থাকলেও, জলসংকট এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।



