Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে (Congress)। অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব। তিলক মার্গ থানায় তাঁকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এর আগে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

কী ঘটেছিল ভারতমণ্ডপমে? (Congress)
শুক্রবার দিল্লির ভারতমণ্ডপম-এ আয়োজিত এআই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সদস্য টি-শার্ট খুলে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের টি-শার্টে লেখা ছিল “নরেন্দ্র মোদী কমপ্রোমাইজড”। সম্মেলনে উপস্থিত সাধারণ দর্শক ও অতিথিদের একাংশ এই আচরণের প্রতিবাদ জানালে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের আটক করে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া (Congress)
পুলিশ সূত্রে খবর, অর্ধনগ্ন প্রতিবাদের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদয় ভানু চিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেননি। এমনকি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই প্রতিবাদের পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আদালতে তদন্তকারীরা জানান, নেপালের তথাকথিত “জেন জি আন্দোলন” থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিতর্ক (Congress)
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান-সহ বহু আন্তর্জাতিক অতিথি। তাঁদের উপস্থিতিতে এমন প্রতিবাদ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিরোধীদের একাংশের মতে, বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের আচরণ দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে। আবার কংগ্রেসের সমর্থকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে, এবং সেটিই প্রয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও কটাক্ষ (Congress)
ঘটনাকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্তব্য করেন, “আপনারা তো নগ্নই, নতুন করে জামা খোলার কী প্রয়োজন ছিল?” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুধু শাসক দলই নয়, ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলগুলিও যুব কংগ্রেসের এই প্রতিবাদের ধরনকে সমর্থন করেনি। অনেকেই মনে করছেন, প্রতিবাদের ভাষা ও ভঙ্গি গণতান্ত্রিক হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে এমন পদ্ধতি শোভন নয়।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
প্রতিবাদের ভাষা বনাম শালীনতার প্রশ্ন
গণতন্ত্রে প্রতিবাদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ধরন কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে চিরকালই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্মেলনে বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ও শিল্পপতিরা উপস্থিত থাকেন, তখন প্রতিবাদের রূপ আরও বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এই ঘটনার মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে প্রতিবাদের নৈতিকতা ও সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।



