Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙ-এর মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে (Trump JInping Call)। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, আলোচনাটি ছিল “ভাল এবং গঠনমূলক”। মূলত বাণিজ্য থেকে শুরু করে টিকটক, ফেন্টানাইলের মতো নিষিদ্ধ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ, এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার।
অ্যাপেক সম্মেলনে মুখোমুখি (Trump JInping Call)
ফোনালাপের সময় দুই নেতাই জানিয়েছেন, তাঁরা দক্ষিণ কোরিয়ায় অক্টোবর মাসে আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক কোঅপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে মুখোমুখি হবেন (Trump JInping Call)। ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, আগামী বছরের শুরুতেই তিনি চিন সফরে যাবেন এবং পরবর্তী সময়ে শি জিনপিঙ আমেরিকা সফরে যাবেন।
শুল্কযুদ্ধ থেকে সমঝোতা
ট্রাম্প-শি-এর মধ্যে এর আগে জুন মাসে কথা হয়েছিল(Trump JInping Call)। সেই সময় চলমান শুল্কযুদ্ধ কিছুটা প্রশমিত হয় এবং দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি সই করে। তবে এখনও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তবুও সাম্প্রতিক ফোনালাপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, উভয় দেশই সহযোগিতার পথে এগোতে চাইছে।
টিকটক নিয়ে নতুন সম্ভাবনা
টিকটক নিয়ে আমেরিকায় টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই এই ফোনালাপ গুরুত্বপূর্ণ(Trump JInping Call)।গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাশ হয় টিকটক নিষিদ্ধ করার জন্য। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথমে ৭৫ দিনের জন্য সেই আইন স্থগিত করেছিলেন। পরে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের উদ্যোগে কি টিকটক ফের মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে? ফোনালাপের পর ট্রাম্প লিখেছেন, টিকটক সংক্রান্ত যে অনুমোদন মিলেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।
ফেন্টানাইল ও আন্তর্জাতিক মাদক বাণিজ্য
আলোচনায় উঠে এসেছে ফেন্টানাইল নামক নিষিদ্ধ ওষুধের বিষয়ও(Trump JInping Call)। আমেরিকায় এই মাদক মারাত্মক সামাজিক সংকট তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, এই ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহে চিনের ভূমিকা রয়েছে। ফলে দুই দেশের আলোচনায় এই ইস্যুর গুরুত্ব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন : Pak Saudi Defence Deal : পাকিস্তানের পরমাণু নীতি নিয়ে দ্বন্দ্ব! শুধু ভারত নয়, অন্য দেশও কি নিশানায়?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আলোচনার প্রস্তাব(Trump JInping Call)
ট্রাম্প ও শি জিনপিঙ আলোচনা করেছেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, কীভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে আনা যায়, সেটাই আলোচনার মূল ফোকাস ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ও আমেরিকার যৌথ উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
ভারতের উপর বাড়ছে চাপ?(Trump JInping Call)
অন্যদিকে, নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যচুক্তির খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি(Trump JInping Call)। এই অবস্থায় ট্রাম্প-শি বৈঠকে নতুন সমঝোতা হলে তা ভারতের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র ও চিন যদি নতুন কোনও বাণিজ্য নীতি গড়ে তোলে, তবে ভারতকে সেই সমীকরণের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।
সাম্প্রতিক ট্রাম্প-জিনপিঙ ফোনালাপ নিছক সৌজন্য নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড় আনতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। টিকটক থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি—প্রত্যেকটি ইস্যুই বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে পারে।


