Last Updated on [modified_date_only] by
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০ এপ্রিল, ব্রিগেড (CPM Brigade 2025) প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল সিপিএমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ। এবারের ব্রিগেডে বড়সড় জমায়েত করল বামফ্রন্ট। শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর এবং বস্তি চারটি গণসংগঠনের ডাকে রবিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাবেশ করেছে সিপিএম। বেলা ৩টেয় ব্রিগেডের সভা শুরু হয়। মোট ছ’জন বক্তা ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই মেহনতি মানুষের অধিকারের দাবিতে আওয়াজ তুলেছেন ব্রিগেড মঞ্চ থেকে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ছাড়া বক্তাদের তালিকায় রাখা হয়েছিল কৃষকসভার অমল হালদার, ক্ষেতমজুর সংগঠনের নিরাপদ সর্দার, বন্যা টুডু, বস্তি উন্নয়ন সমিতির সুখরঞ্জন দে, সিটুর অনাদি সাহুকে।
রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (CPM Brigade 2025)
সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (CPM Brigade 2025) বলেন, “যারা লুটে খাচ্ছে, তারা লুটের বাজার বড় করতে চাইছে। শ্রমজীবী মানুষের ক্ষতি করছে মোদী-মমতার সরকার। নিয়োগ বন্ধ, নতুন কলকারখানা হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আসলে ন্যাকামো করছেন। ছাত্র-যুবরা রাস্তায় নামছে ইনসাফ চাইতে। আরজি করে একজন ডাক্তারকে খুন করে ফেলা হল। কিন্তু রাজ্য পাল্টাচ্ছে। মানুষ নিজেদের হক বুঝে নিতে সোচ্চার হচ্ছে।…পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙতে এলে থানায় থানায় এফআইআর হবে। সময় এসে গেছে, আমাদের ঝাণ্ডার ডাণ্ডাগুলোকে শক্ত করতে হবে কমরেড।”
ক্ষেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু (CPM Brigade 2025)
ক্ষেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু (CPM Brigade 2025) বলেন, ” যারা শহরে থাকেন, তারা অনেকেই আমাদের কথা জানেন না। আমরা এই লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়ব। আসলে মানুষের রুটিরুজি আর ভোটবাক্স দুটো আলাদা। আমরা ১০০ দিনের কাজকে ২০০ দিন করতে চাই। হয় টাকা দাও, নাহলে কাজ দাও। ওসব চলবে না। আমরা আসলে আপনাদের জন্যই লড়ছি। আজ মা-বোনেরা ব্রিগেডে এসেছে। তৃণমূল এত চুরি করেছে যে, দিদি ঠিক কী বলবেন নিজেই বুঝতে পারছেন না। ওরা তো বলছেন খেলা হবে! আমরা বলছি, খেলব আমরাও। ছাব্বিশে আমরাও উইকেট ফেলব।’’
আরও পড়ুন: Buddhadeb Bhattacharjee: প্রথমবার ব্রিগেড মঞ্চে নেই বুদ্ধবাবু, লাল মঞ্চে নীরব এক শূন্যতা
CITU নেতা অনাদি সাহু
CITU নেতা অনাদি সাহুর কথায়, ‘‘আজ দিকে দিকে বিপন্ন শ্রমজীবী মানুষ। কয়লাখনি, চা বাগান, ইস্পাত কারখানা এবং চটকলের মানুষ আজ আক্রান্ত হচ্ছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী একটা সরকার গত ১৪ বছর ধরে গোটা রাজ্য জুড়ে লুটের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের রাজ্যে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে এবং ৩২ হাজারের চাকরি ঝুলে রয়েছে। এদিকে ছাত্র-যুবরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। ভাবতে পারছেন? পুরো রাজ্যের অগ্রগতি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে।”
বস্তি উন্নয়ন সমিতির সুখরঞ্জন দে
সুখরঞ্জন বলেন, ‘‘বস্তিবাসীরা আগামী দিনে শহরে থাকতে পারবেন কি না, অনিশ্চিত। বস্তি উচ্ছেদ নয়, বরং বস্তিবাসীদের নিরাপদ স্বত্ব, পাট্টা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। বস্তিবাসীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমরা এই লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়তে চাই। প্রান্তিক মানুষদের সংগঠিত করে আমরা জেলায় জেলায় আন্দোলন গড়ে তুলছি। বস্তিবাসীদের শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। পানীয় জল সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথীতে স্বজনপোষণ করা হচ্ছে। বিপিএল-কে এপিএল করে দেওয়া হচ্ছে। আবাসের টাকা দিচ্ছে না। অন্য রাজ্যগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। আমাদেরও বিনামূল্যে গোটা রাজ্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে। অন্য রাজ্য পারলে তোমরা কেন দেবে না?’’
কৃষকসভার অমল হালদার
অমল হালদার বলেন, ‘‘কৃষকেরা বিপন্ন। গোপনে জমি বন্ধক দিতে হচ্ছে। ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফসলের দাম পাচ্ছেন না কেউ। সারের দাম, বীজের দাম বাড়ছে। রাজ্য ভয়ঙ্কর অবস্থার দিকে যাচ্ছে। লড়াই ছাড়া কোনও পথ নেই। অতীতেও বাঁচানোর জন্য লাল ঝান্ডা ছুটে এসেছিল। রাজ্যে কৃষির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো ২৬ হাজার চাকরি চলে গেল। অযোগ্যদের বাঁচানোর জন্য যোগ্যদের বলি দিলেন মমতা। চালের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। ভাত খেতে পাব আমরা আগামী দিনে? চালও তো আমদানি করতে হবে বাইরে থেকে! জমি কমছে। উৎপাদন কমছে। সরকারের কোনও পরিকল্পনাই নেই। এর পর দুর্ভিক্ষের মতো চিত্র দেখা যাবে। নয়া কৃষিনীতির নাম করে বিপজ্জনক সংস্করণ তৈরি করছেন।’’
ক্ষেতমজুর সংগঠনের নিরাপদ সর্দার
বাম নেতা নিরাপদ সর্দারের কথায়, “অনেকের ঘুম উড়ে যাবে এই ব্রিগেড দেখে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব। পড়াশোনা করে এই সময়ের ছাত্র-যুবরা পরিযায়ী শ্রমিক হতে রীতিমতো বাধ্য হচ্ছেন। দেশের লোকসভাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কোনও আলোচনা হয় না। বিধানসভাতেও একই অবস্থা। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে আছে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুরি করেছেন। আমরা বলছি, ১০০ দিনের নয়! ২০০ দিনের কাজ দিন।”


