Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় টাকার দরপতন ফের নতুন (Currency Depreciation) রেকর্ড ছুঁল। পরপর দুই দিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা বাড়তে বাড়তে বৃহস্পতিবার তা নেমেছে ৯০.৪৩-যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। প্রথম ট্রেডিং সেশনেই টাকার মূল্য ১৭ পয়সা কমে খোলে ৯০.৩৬-এ, যা গত সেশনের ৯০.১৯ থেকে বেশ নিচে। পরে সকালেই একসময় তা ছুঁয়ে ফেলে ৯০.৪৩।
কেন পড়ছে রুপির দাম? (Currency Depreciation)
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন (Currency Depreciation) বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) ক্রমাগত টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই টাকার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ডলারের শক্তিশালী উপস্থিতি ও বৈদেশিক বাজারে উদ্বেগ-সব মিলিয়ে টাকার উপর তৈরি হয়েছে বিক্রির চাপ।

কারা পাচ্ছে সুবিধা? (Currency Depreciation)
টাকার পতন মানেই শুধু ক্ষতি নয়-কিছু খাতের জন্য এটি বাড়তি আয়ের সুযোগ (Currency Depreciation) তৈরি করে।
- আইটি খাত
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাগুলির বড় অংশই রফতানিনির্ভর। তারা ডলারে পারিশ্রমিক পায়, কিন্তু অধিকাংশ খরচ হয় টাকাতে। ফলে টাকার অবমূল্যায়ন তাদের নিট মুনাফা বাড়িয়ে দেয়। - ফার্মা শিল্প
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলিরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় আসে বিদেশে ওষুধ রফতানির মাধ্যমে। ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হলে বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ রুপির হিসাবে বেশি হয়ে যায়। ফলে চাহিদা স্থির থাকলে লাভও বাড়তে পারে। - অটো রফতানিকারকরা
টিভিএস মোটর, বাজাজ অটোর মতো দুই–চাকার রফতানিকারক সংস্থা এবং ভারত ফোর্জ বা সম্বর্ধনা মাদারসনের মতো অটো কম্পোনেন্ট রফতানিকারকরা দুর্বল রুপির সরাসরি সুবিধাভোগী। তাদের বিদেশি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ডলার আয় টাকার হিসাবে বাড়তি মুনাফা এনে দেয়। - তেল ও গ্যাস উৎপাদকরা
ওএনজিসি বা অয়েল ইন্ডিয়ার মতো উৎপাদকদের জন্য টাকার প্রতিটি ১ টাকার অবমূল্যায়ন ইপিএস ১–২% পর্যন্ত বাড়াতে পারে। কারণ তারা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা পণ্যের বিনিময়মূল্য পায় ডলারে।
আরও পড়ুন: Mohit Sharma: বাইশ গজকে বিদায়, অবসর নিলেন মোহিত শর্মা
কারা ক্ষতিগ্রস্ত?
যেখানে রফতানিকারকরা লাভবান, সেখানে আমদানিনির্ভর সংস্থাগুলোর পরিস্থিতি উল্টো।

- তেল শোধনাগার ও আমদানিনির্ভর কোম্পানি
- রিলায়েন্স সহ যেসব সংস্থা অপরিশোধিত তেল, এলএনজি কিংবা ইথেন আমদানির উপর নির্ভরশীল, তাদের খরচ বেড়ে যাবে। ডলার শক্তিশালী হলে আমদানি মূল্যও বাড়তে বাধ্য, ফলে মুনাফার অঙ্কে চাপ পড়বে।
আরও পড়ুন: Mohit Sharma: বাইশ গজকে বিদায়, অবসর নিলেন মোহিত শর্মা
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
টাকার পতন মানে দৈনন্দিন খরচে বাড়তি চাপ। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে ইলেকট্রনিক্স থেকে গাড়ি-বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণের খরচও বেড়ে যাবে। বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।


