Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের প্রকৃতি যেমন বহুমুখী, তেমনই তার বিস্তারও দ্রুত (Cyber Helpline)। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে চালু হওয়া বিশেষ হেল্পলাইন সাধারণ মানুষের জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক ফোন আসা থেকে বোঝা যায় শহরবাসী ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সমস্যায় পড়লে দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা চাইছেন। পুলিশের মতে, অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাইবার শাখায় পাঠানো হয়েছে।

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর আতঙ্ক (Cyber Helpline)
অভিযোগের বড় অংশই অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে পরিচিত প্রতারণার প্রবণতা বেড়েছে। এই পদ্ধতিতে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও কল বা ফোনের মাধ্যমে ভয় দেখান। কখনও বলা হয়, ভুক্তভোগীর নামে বেআইনি লেনদেন হয়েছে, কখনও আবার মানি লন্ডারিং বা পর্নোগ্রাফি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করে টাকা আদায় করাই তাদের লক্ষ্য। হেল্পলাইনে আসা বহু ফোনেই এই ধরনের হুমকি বা সন্দেহজনক কলের অভিযোগ উঠে এসেছে।
ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগ (Cyber Helpline)
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোবাইল বা ডিভাইস হ্যাকিং নিয়ে। অনেকেই দাবি করেছেন, তাঁদের ফোনে অজানা অ্যাপ ইনস্টল হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছে, বা ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য চুরি হয়েছে। ডিজিটাল নির্ভরতার যুগে মোবাইল ফোনই এখন ব্যক্তিগত ব্যাঙ্কিং, সামাজিক যোগাযোগ ও অফিসিয়াল কাজের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে ডিভাইস হ্যাক হলে আর্থিক ও মানসিক দুই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
অনলাইন পেমেন্ট জালিয়াতি (Cyber Helpline)
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুয়ো ওয়েবসাইটে হোটেল বুকিং করে টাকা খোয়ানোর অভিযোগও এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনলাইন পেমেন্ট করার পর বুকিং নিশ্চিত করা হয়নি, কিংবা সংশ্লিষ্ট নম্বর বা ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। উৎসবের মরসুম বা পর্যটন-সময়ের আগে এই ধরনের প্রতারণা বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ লোভনীয় অফার দেখে দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন, পরে বুঝতে পারেন সেটি ভুয়ো সাইট।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে বিভ্রান্তি (Cyber Helpline)
হেল্পলাইনে বহু ফোন এসেছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত। অভিযোগকারীদের দাবি, সাইবার প্রতারণার তদন্তের নামে তাঁদের অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরের সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ দায়েরের পর বা সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত হলে ব্যাঙ্ক সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় ভুক্তভোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য যাচাই করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
পুরোনো প্রতারণা মামলার অর্থ উদ্ধারের প্রত্যাশা
পাঁচ থেকে ছ’বছর আগের সাইবার প্রতারণার মামলার অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে জানতেও বহু মানুষ ফোন করেছেন। এতে বোঝা যায়, বহু ভুক্তভোগী এখনও ন্যায়বিচার বা অর্থ ফেরতের আশায় আছেন। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থ উদ্ধার অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, কখনও বিদেশি সার্ভারের মাধ্যমে লেনদেন হয় ফলে তদন্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আন্তঃরাজ্য সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়ে।



