Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন বছরের প্রথম সকাল মানেই আশার আলো, নতুন শুরুর প্রত্যাশা (Dakshineswar Temple)। তার উপর আবার ১ জানুয়ারি কল্পতরু উৎসব। ফলে বছর শুরুর আগেই আধ্যাত্মিক আবহে ভরে ওঠে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী তীর্থস্থানগুলি। পুজোপাঠ, প্রার্থনা ও সংকল্পের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার কাকভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বর, কাশীপুর উদ্যানবাটি-সহ একাধিক মন্দিরমুখী হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত।

ভোররাত থেকেই ভক্তসমাগম (Dakshineswar Temple)
বছরের প্রথম দিনটিতে উত্তর কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভক্তসমাগম বরাবরই বেশি থাকে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোররাত থেকেই ফুলের ডালা হাতে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে মন্দির চত্বরে। কাকভোরে শুরু হওয়া এই ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে। কাশীপুর উদ্যানবাটিতে, যেখানে কল্পতরু উৎসবের ঐতিহাসিক সূচনা, সেখানেও দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়।
কল্পতরু উৎসব ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Dakshineswar Temple)
ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হোম-যজ্ঞ ও আধ্যাত্মিক আলোচনা (Dakshineswar Temple)
কল্পতরু উৎসবের দিন দক্ষিণেশ্বর ও কাশীপুরে দিনভর চলে পুজোপাঠ, হোম-যজ্ঞ ও বিশেষ প্রার্থনা। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবন, দর্শন ও বাণী নিয়ে আলোচনা হয় বিভিন্ন সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে নিষ্কামভাবে কিছু চাইলে তা পূরণ হয় এই আস্থাই মানুষকে টেনে আনে বছরের প্রথম দিনেই মন্দিরের দ্বারপ্রান্তে।
অন্যান্য তীর্থস্থানেও পুণ্যার্থীদের ঢল (Dakshineswar Temple)
শুধু দক্ষিণেশ্বর বা কাশীপুরই নয়, কল্পতরু উৎসবের দিনে পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা যায় বেলুড় মঠ, কালীঘাট ও তারাপীঠেও। নতুন বছরের সূচনালগ্নে ঈশ্বরের আশীর্বাদ কামনা করে বহু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এই তীর্থস্থানগুলিতে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন: Iran: ইরানে মুদ্রার রেকর্ড দরপতন: জনরোষ দেশের বিভিন্ন শহরে, উঠছে খোমেইনি বিরোধী স্লোগান
কল্পতরু দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কল্পতরু উৎসবের পিছনে রয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপট। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি। তখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন উত্তর কলকাতার কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। সেই দিন সকালে সামান্য সুস্থ বোধ করায় তিনি বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যকার ও ভক্ত গিরীশচন্দ্র ঘোষ।



