Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির লালকেল্লার বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগের (Delhi Blast) দিন লখনউ থেকে গ্রেফতার হন এক মহিলা চিকিৎসক-নাম শাহিন সিদ্দিকি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই বিস্ফোরণকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। উত্তরপ্রদেশের এটিএস ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়ার পর উঠে আসছে একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য।
ডাক্তারি বিদ্যা (Delhi Blast)
শাহিন সিদ্দিকি, পেশায় একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক (Delhi Blast)। একসময় কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালে আচমকা উধাও হয়ে যান। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর ২০২১ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে বরখাস্ত করে। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি কনৌজ মেডিক্যাল কলেজে বদলি হয়েছিলেন। কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল প্রয়াগরাজ থেকে, সেখানেই তিনি ডাক্তারি পড়েন।
আন্তর্জাতিক সংযোগের ইঙ্গিত (Delhi Blast)
শাহিনের জীবনের এই অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হয় ফরিদাবাদে (Delhi Blast) এক অভিযানের পর। সেখানে এক বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক-প্রায় ৩৬০ কেজি। মেলে একে-৪৭ রাইফেল, রিমোট, ওয়াকিটকি, বোমার টাইমার-যার সূত্রেই উঠে আসে শাহিনের নাম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের সময় তাঁর গাড়ি থেকেও অস্ত্র মেলে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে, এবং জিজ্ঞাসাবাদে মিলছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংযোগের ইঙ্গিত।
শীর্ষস্থানীয় নেত্রী
গোয়েন্দা মহলের দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনিন-এর ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় নেত্রী হিসেবে কাজ করতেন শাহিন। সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। লখনউয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ নথি, হার্ড ডিস্ক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে তাঁর ভাই পরভেজ আনসারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে-তিনিও চিকিৎসক।

শৈশব
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহিনের শৈশব কেটেছে লখনউয়ের খান্ডারি বাজারে। বাবা সঈদ আনসারি বন দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েন ছিল শাহিনের। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা চিকিৎসক জাফর হায়াতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, কিন্তু ২০১৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর পরই তিনি ফরিদাবাদে চলে যান এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান।
আরও পড়ুন: Partha Chatterjee: বিধানসভায় থাকতে চান পার্থ, কোন আসনে বসানো হবে তাকে?
তদন্তকারীদের মতে, বিচ্ছেদের পর থেকেই শাহিন ধীরে ধীরে পরিবারের থেকে দূরে সরে যান এবং সম্ভবত সেই সময়ই সন্ত্রাসবাদী চক্রের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বক্তব্য, “ও কখনও ধর্মীয় উন্মাদ ছিল না, বরং বিদেশে গিয়ে নতুন জীবন গড়তে চেয়েছিল। এখন যা শুনছি, তা বিশ্বাস করা কঠিন।”
এনআইএ ইতিমধ্যেই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। শাহিনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও বিদেশি যোগাযোগের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


