Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণের রাজ্য কেরল–এর নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দেশজুড়ে নামবদল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে (Delhi)। তারই আবহে এবার রাজধানী দিল্লি–র নাম বদলে ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল। তিনি এই মর্মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা–কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, পুরাণ এবং সমকালীন রাজনীতির এক জটিল সংমিশ্রণ সামনে এসেছে।

‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ (Delhi)
সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়ালের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ নামের ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত তাৎপর্য। তাঁর দাবি, প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারত–এ বর্ণিত পাণ্ডবদের রাজধানী ছিল ইন্দ্রপ্রস্থ, যা যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এক সমৃদ্ধ নগরী। আধুনিক দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সেই বর্ণনার উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়। এই যুক্তি অনুসারে, ‘দিল্লি’ নামটি অপেক্ষাকৃত পরবর্তী সময়ের পরিচয় বহন করে, যা শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। ফলে রাজধানীর নাম ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ হলে তা ভারতের প্রাচীন সভ্যতার ধারাবাহিকতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এমনটাই দাবি তাঁর।
পুরাণ কিলা ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ (Delhi)
দাবির পক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে দিল্লির ঐতিহাসিক স্থাপত্য পুরাণ কিলা–কে কেন্দ্র করে। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের খননে এখানে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১০০০ অব্দের প্রাচীন বসতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খননকার্যে যে প্রাচীন মাটির পাত্র ও নিদর্শন মিলেছে, তা অনেকের মতে মহাভারত-যুগীয় সভ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই প্রমাণকে ভিত্তি করেই ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’-এর ঐতিহাসিক অস্তিত্বের দাবি জোরদার করা হচ্ছে। যদিও ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, পুরাণ ও মহাকাব্যের বর্ণনাকে সরাসরি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের সঙ্গে একাত্ম করা সবসময় সহজ নয়; সেখানে গবেষণার বহু স্তর রয়েছে।

সাংস্কৃতিক প্রতীকায়ন (Delhi)
সাংসদের প্রস্তাব শুধু নামবদলে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দিল্লির কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাণ্ডবদের মূর্তি স্থাপনের পরামর্শও দিয়েছেন, যাতে নতুন প্রজন্ম ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। এখানে নামবদল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ যা শুধু প্রশাসনিক নয়, সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, রাজধানীর পরিচয় কি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিফলন হবে, নাকি প্রাচীন পৌরাণিক ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন?
রাজনীতি না সাংস্কৃতিক পুনর্লিখন? (Delhi)
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের নানা শহর ও স্থানের নাম পরিবর্তনের নজির রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কেরলের নাম ‘কেরলম’ করার সিদ্ধান্ত এবং দিল্লির নাম ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ করার দাবি একই ধারাবাহিকতার অংশ বলে অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ থেকে ‘বাংলা’ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কেন্দ্র এখনও সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে নামবদলের ক্ষেত্রে কি কোনও নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, নাকি তা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে?

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। রাজ্যের বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সম্মতি এই ধাপগুলো অতিক্রম করেই নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়। দিল্লির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল, কারণ এটি দেশের রাজধানী এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



