Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফের চরম ভোগান্তির মুখে (Delhi Plane Cancel) পড়ল দিল্লিবাসী। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী দিল্লি এবং সংলগ্ন ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওন বা এনসিআর ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার মোটা চাদরে ঢেকে যায়। কুয়াশার তীব্রতার জেরে একাধিক এলাকায় দৃশ্যমানতা কার্যত শূন্যে নেমে আসে, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
যান চলাচল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত (Delhi Plane Cancel)
গাজিয়াবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদ-সহ এনসিআরের (Delhi Plane Cancel) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোরের দিকে রাস্তাঘাটে যান চলাচল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। বহু জায়গায় কয়েক মিটার দূরের কিছুই চোখে পড়ছিল না। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ভোরের দিকে সেখানে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে পৌঁছে যায়। সকাল আটটায় আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালি চোখে দৃশ্যমানতা ছিল মাত্র ৫০ মিটার, যা বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ঘন কুয়াশার সরাসরি প্রভাব (Delhi Plane Cancel)
ঘন কুয়াশার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান (Delhi Plane Cancel) পরিষেবায়। খুব ভোরের দিকে প্রায় ২০০টি উড়ান নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছাড়তে বাধ্য হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত ১০টি উড়ান বাতিল করা হয়। যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও দুর্ভোগ দেখা দেয়। অনেককেই দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়, আবার বহু যাত্রী বিকল্প পরিবহণের খোঁজে পড়েন।
রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুদূষণ (Delhi Plane Cancel)
কেবল কুয়াশাই নয়, একইসঙ্গে ভয়াবহ চেহারা নেয় রাজধানী (Delhi Plane Cancel) ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুদূষণ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ‘সমীর’ অ্যাপ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল আটটায় দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI পৌঁছয় ৪১৪-এ। এই মাত্রা ‘অত্যন্ত খারাপ’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিন দিল্লি-এনসিআরের আবহাওয়ার তেমন কোনও উন্নতির সম্ভাবনা নেই। অন্তত ক্রিসমাস পর্যন্ত বাতাস ভারী থাকবে এবং এর ফলে ঘন ধোঁয়াশা ও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বাতাসের মান খুব খারাপ স্তরেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে বাতাসের মান বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর।
ঘন কুয়াশার কবল
দিল্লির পাশাপাশি উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশও ঘন কুয়াশার কবলে পড়তে চলেছে। পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও রাজস্থানেও আগামী কয়েকদিন কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে দেশের উত্তর প্রান্তে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, কাশ্মীর, লাদাখ এবং হিমাচল প্রদেশের একাংশে আগামী কয়েকদিন তুষারপাত হতে পারে। এর জেরে পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমবে এবং শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সার্বিকভাবে ঘন কুয়াশা, তীব্র দূষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে রাজধানী দিল্লি ও আশপাশের এলাকাগুলিতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর।


