Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফের স্পষ্ট (Delhi Visa Office Closed) উত্তেজনা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে প্রশ্নের মুখে। এক দিকে নয়াদিল্লি যেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বার্তা দিচ্ছে, অন্য দিকে ঢাকা যেন একের পর এক সিদ্ধান্তে অশান্তির আবহ জিইয়ে রাখছে, এমনই অভিযোগ উঠছে কূটনৈতিক মহলে।
সাময়িক ভাবে বন্ধ ভারতীয় ভিসা (Delhi Visa Office Closed)
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা ভারতীয় (Delhi Visa Office Closed) ভিসা সেন্টারগুলি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই চালু করা হবে, সোমবার এমনই আশ্বাস দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল মানবিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। কিন্তু সেই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উল্টো পথে হাঁটে ঢাকা। আচমকা নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্র অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অধীন সব ধরনের কনসুলার পরিষেবাও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনা আরও বাড়ে (Delhi Visa Office Closed)
এর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে ত্রিপুরার (Delhi Visa Office Closed) আগরতলায়। বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন জানায়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ ২৩ ডিসেম্বর থেকে সেখানে সমস্ত ভিসা ও কনসুলার পরিষেবা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে সরকারি ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক কট্টরপন্থী ভারত–বিরোধী প্রচার, বিক্ষোভ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।
ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল রাশিয়া (Delhi Visa Office Closed)
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকাকে কড়া বার্তা (Delhi Visa Office Closed) দিল রাশিয়া। সোমবার ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজ়ান্দার গ্রিগোরাইভিচ ব্যতিক্রমী ভাবে মস্কোর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, রাশিয়া চায় ভোটের আগেই বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরুক এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক হোক। তাঁর কথায়, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা অত্যন্ত জরুরি। মস্কো হস্তক্ষেপ করতে চায় না, কিন্তু উত্তেজনা আরও বাড়ার আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা বুদ্ধিমানের।”
বাংলাদেশে ভোট পর্যবেক্ষণে যেতে প্রস্তুত (Delhi Visa Office Closed)
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের দিকেই ইঙ্গিতপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, সরকারি আমন্ত্রণ পেলে রাশিয়ার নির্বাচনী পর্যবেক্ষকেরা বাংলাদেশে ভোট পর্যবেক্ষণে যেতে প্রস্তুত। এ দিকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আসন্ন গণভোট ঘিরে প্রচারের লক্ষ্যে সারা দেশে নামিয়েছে দশটি ‘সুপার ক্যারাভান’। তবে ভোট আদৌ শান্তিপূর্ণ ভাবে হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, দুষ্কৃতীদের গুলিতে যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে যে ভাবে দেশজুড়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে, তা আদতে ভোট ভেস্তে দেওয়ারই সুপরিকল্পিত ছক।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়াবহ ছবি
এই অশান্তির আবহেই ফের সামনে এসেছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়াবহ ছবি। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু তরুণ কারখানা-কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, দীপুর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগের কোনও প্রামাণ্য তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তা হলে কেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড-এই প্রশ্নে ফের উত্তাল বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দেশেরই একাংশ।
ভারতে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ
এই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে সেবক রোড সংলগ্ন বাংলাদেশের ভিসা অফিস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সংগঠনগুলির সাফ বক্তব্য, বাংলাদেশে হিন্দুদের রক্ত ঝরলে ভারতে বসে বাংলাদেশের কোনও দপ্তর বা কাজ চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি অফিস চত্বরে টাঙানো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
কলকাতাতেও প্রতিবাদের ঢেউ
কলকাতাতেও প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে। দীপু চন্দ্র দাস হত্যার দ্রুত বিচার এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সোমবার বিকেলে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন অভিযানের ডাক দেয় বিজেপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মিছিলে কয়েকশো সাধু–সন্তও যোগ দেন। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভের জেরে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। একই দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসও, যা রাজনৈতিক ভাবে বিরল সমাপতন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
চট্টগ্রামের আইভ্যাক এখনও বন্ধ
অন্য দিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই ঢাকার ভারতীয় ভিসা সেন্টার বুধবার এক দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লার ভারতীয় কূটনীতিকদের মারধরের হুমকির পর রাজশাহী ও খুলনার ভিসা সেন্টারও সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়। যদিও পরে সেগুলি ফের চালু হয়, তবে চট্টগ্রামের আইভ্যাক এখনও বন্ধ রয়েছে। কারণ সেখানে সরাসরি হামলা হয়েছিল ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দপ্তরে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা
তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। সোমবার ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাক পরিদর্শনে যান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা। তিনি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতার কথাও শোনেন। পরে সাংবাদিকদের জানান, “উদ্বেগজনক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও মানবিক কারণে চিকিৎসা-সহ জরুরি ভিসা পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করছে ভারতীয় হাইকমিশন। পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সব ভিসা কেন্দ্র পুরোপুরি চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, ভোটের ভবিষ্যৎ এবং ভিসা-কূটনীতি— এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ফের এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখন প্রশ্ন একটাই— আদৌ কি এই উত্তাপের অবসান হবে, না কি অশান্তির রাজনীতি আরও গভীর হবে?


