Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দোলের আবহে সমুদ্রতীরের শহর দিঘা এ বছর এক বিশেষ প্রত্যাশায় মুখর (Digha Jagannath Temple)। সদ্য উদ্বোধিত দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রথম দোল উৎসব ঘিরে ভক্ত ও পর্যটকদের উন্মাদনা ক্রমেই বাড়ছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে হোটেল ব্যবসায়ী সকলেরই আশা, এ বার দিঘায় বিদেশি পর্যটকদের ভিড় অনেকটাই বাড়বে, অনেকটা যেমন দেখা যায় মায়াপুর-এ দোলের সময়।

প্রথম দোল, বিশেষ তাৎপর্য (Digha Jagannath Temple)
উদ্বোধনের পর এই প্রথম দোল উৎসব পালিত হতে চলেছে দিঘা জগন্নাথ মন্দির-এ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উৎসবকে ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে। মন্দিরে শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নতুন বস্ত্র ও নানান ফুলে সজ্জিত করা হবে। দোলের আবিরে রাঙানো হবে বিগ্রহ। বিকেলে বিশেষ অভিষেক এবং সন্ধ্যায় বিশেষ পূজা ও ভোগ নিবেদনের আয়োজন রাখা হয়েছে। এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি দিঘার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত হতে চলেছে। সমুদ্র ও সাধনার মিলনে এক অনন্য আবহ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
বিদেশি ভক্তদের আগ্রহ বৃদ্ধি (Digha Jagannath Temple)
মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য তথা কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, প্রতি বছর দোল উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত মায়াপুরে ভিড় জমান। এ বছর দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়েও বিদেশি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি পর্যটক এই মন্দির পরিদর্শন করেছেন। মায়াপুর থেকে দিঘায় সরাসরি বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। ফলে নবদ্বীপ-মায়াপুরে আগত ভিনদেশি পুণ্যার্থীরা সহজেই দিঘায় এসে জগন্নাথ দর্শন করতে পারবেন। ধর্মীয় পর্যটনের এই সংযোগ দিঘার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা।

হোটেল শিল্পে আশাবাদ (Digha Jagannath Temple)
দোলের ছুটি মানেই সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিড়। এ বছর সেই ভিড় আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন দিঘার হোটেল ব্যবসায়ীরা। হোটেলিয়ার্স দিঘা-শঙ্করপুর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ হোটেলের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কক্ষ ইতিমধ্যেই আগাম বুকিং হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে নিউ দিঘা হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, তাদের এলাকায় এখনও পর্যন্ত ২৫-৩০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তের ‘স্পট বুকিং’-এর ওপর যথেষ্ট ভরসা রয়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, দোলের সময় পর্যটকদের ঢল নামে, এবং এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না।
প্রশাসনের প্রস্তুতি (Digha Jagannath Temple)
পর্যটকদের সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনও প্রস্তুত। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। উৎসবের সময়ে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং পর্যটকরা নির্বিঘ্নে দোল উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
ধর্মীয় পর্যটনের নতুন দিগন্ত
দিঘা দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রসৈকতের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার ফলে এই শহর ধীরে ধীরে ধর্মীয় পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। মায়াপুরের আদলে আন্তর্জাতিক ভক্তসমাগম ঘটলে দিঘার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।



