Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের জগতে তাঁর অবাধ যাতায়াত। ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন এই শব্দগুলো তাঁর কাছে কখনও ভয়ের ছিল না, বরং ছিল স্বাভাবিক জীবনের অংশ (Ditipriya Roy)। অল্প বয়সেই একের পর এক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন দিতিপ্রিয়া রায়। খুব দ্রুতই তিনি হয়ে ওঠেন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ, ঘরের মেয়ে।

‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ (Ditipriya Roy)
দিতিপ্রিয়ার কেরিয়ারের মোড় ঘোরানো অধ্যায় নিঃসন্দেহে করুণাময়ী রাণী রাসমণি ধারাবাহিক। ঐতিহাসিক চরিত্র রাসমণির ভূমিকায় তাঁর সাবলীল ও শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। বয়সে তরুণী হলেও চরিত্রের গভীরতা, দৃঢ়তা এবং আবেগকে তিনি যে দক্ষতায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা প্রশংসিত হয়েছিল সর্বত্র। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে দিতিপ্রিয়া পৌঁছে যান বাংলার আমজনতার ড্রয়িংরুমে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে আসে দায়িত্ব, বাড়ে প্রত্যাশা। কিন্তু অভিনয়ের সাফল্য তাঁর শিক্ষাজীবনে কখনও প্রভাব ফেলতে পারেনি এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব।

অভিনয় ও পড়াশোনার সমান্তরাল লড়াই (Ditipriya Roy)
অনেক সময়ই দেখা যায়, ছোট বয়সে অভিনয়ে সাফল্য পেলে পড়াশোনা পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু দিতিপ্রিয়া সেই ধারার ব্যতিক্রম। শুটিং ফ্লোরে ব্যস্ততার মাঝেও বই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সহ-অভিনেতা ও ইউনিটের সদস্যরা প্রায়ই দেখেছেন, শটের ফাঁকে তিনি মন দিয়ে পড়ছেন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি অর্জন করেন ৮২ শতাংশ নম্বর। ইংরেজি, এডুকেশন এবং মিউজিকে লেটার মার্কস পাওয়া তাঁর মেধার প্রমাণ দেয়। জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা সামলানো যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। তবু তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছাশক্তি ও শৃঙ্খলা থাকলে দুটো পথ একসঙ্গেও চলা যায়।
এক সাফল্যের মুকুট (Ditipriya Roy)
সম্প্রতি সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন দিতিপ্রিয়া। সোমবার তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন সনদ গ্রহণের কিছু ছবি ও একটি ভিডিও। শাড়ি পরিহিতা, গলায় উত্তরীয়, হাতে আই-কার্ড গর্ব ও আনন্দ যেন মুখে স্পষ্ট। তিনি লেখেন, “সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। স্মরণীয় একটি দিন। আনন্দ করার মতো প্রাপ্তি।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তার মধ্যেই ধরা পড়ে দীর্ঘ পরিশ্রমের ইতিহাস। মাস্টার্স পরীক্ষার আগে তাঁর শুটিং সূচি ছিল সমান ব্যস্ত। তবুও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে অবশেষে অর্জন করলেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আবারও প্রমাণ হল পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
পরিবার ও অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস
স্বাভাবিকভাবেই এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনুরাগীরা গর্ব অনুভব করছেন, কারণ তাঁদের প্রিয় অভিনেত্রী শুধু পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দিতিপ্রিয়ার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার গল্প। বিশেষ করে যারা অভিনয় বা অন্য পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য এটি এক ইতিবাচক বার্তা।



