Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া থেকে ভারতের ক্রমবর্ধমান খনিজ তেল ও প্রতিরক্ষা সামগ্রীর আমদানিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন(India Russia Oil Trade)। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে এসব প্রস্তুতপণ্যের জন্য ভারতকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক “জরিমানা” দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারি শুধু বাণিজ্য বিষয়ক নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভূ-রাজনৈতিক স্বরূপকেও স্পষ্ট করছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে টুইট বার্তায় স্বীকার করেন যে, “ভারত এখন রাশিয়ার থেকে তার সর্বমোট তেলের ৩৫ শতাংশ কিনছে” এবং “রুশ অস্ত্রবাজারে মাথা ঝুঁকাচ্ছে”— যা তিনি “জাতীয় স্বার্থবিরোধী” বলে উল্লেখ করেছেন। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভারতের রুশ তেল আমদানি ও অস্ত্র চুক্তির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, জরিমানার পর তার পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের পরিসংখ্যান (India Russia Oil Trade)
– ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার সামগ্রিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ৬.৮ হাজার কোটি ডলারে (প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা) (India Russia Oil Trade)।
– এর মধ্যে ভারত আমদানি করেছে প্রায় ৬.৩ হাজার কোটি ডলারের (৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা) পণ্য— যার মূল অংশ রাশিয়ান খনিজ তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম৷
– রাশিয়ার অংশের আগে মাত্র ১ শতাংশ ছিল; তবে দেশটি ইউক্রেনে মিত্রতা হারানোর পর রাশিয়া সস্তায় তেল বিক্রি শুরু করলে ভারত সরাসরি গতি বাড়ায়।
অস্ত্র আমদানি (India Russia Oil Trade)
রাশিয়া ভারতের শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী। সামরিক জাহাজ, যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে ভারত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও প্রতিরক্ষা চুক্তি বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি, তবুও রুশ সরবরাহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমেনি।

মার্কিন কূটনীতি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কর্মবাহিনী(India Russia Oil Trade)
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য শুধু অর্থনৈতিক নয়— এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে(India Russia Oil Trade)। ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে বেইজিংকে চাপে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা সেই পরিকল্পনায় অপ্রত্যাশিত ছেদ কাঢ়েছে।
এস্প্রেসে, আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্প্রতি বড়সড় জ্বালানি চুক্তি করায়, ভারতকে আরও একবার দ্বৈত মানদণ্ডের মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করছেন কূটনীতিবিদরা। ট্রাম্পের কথায়— “কবে না কবে পাকিস্তান তেল রফতানি করবে ভারতে”— যা বর্তমানে সম্ভব না হওয়ার পরও রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে: ভারতকে রাশিয়া থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে চাপ দেওয়ার কৌশল।

আরও পড়ুন: Pakistan Oil Reserves : পাকিস্তানের তেলে ট্রাম্পের নজর! পাকিস্তান পাবে পেট্রোডলার ?
নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া (India Russia Oil Trade)
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, “আমরা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি”— এবং যে কোনও বিদেশি চাপ নীতিগতভাবেই বহনযোগ্য নয় (India Russia Oil Trade)। অগ্রাধিকার জ্বালানি নিরাপত্তা ও দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে, তবে কূটনৈতিক ব্যালান্স বজায় রাখতে প্রয়াস চালিয়ে যাবে সরকার।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ও অস্ত্র আমদানির বৃদ্ধি শুধুমাত্র অর্থনীতির পরিসংখ্যান বৃদ্ধি করেনি, বরং Indo–Pacific অঞ্চলের কূটনৈতিক লড়াইয়ের মুকুটেও নতুন ইঞ্চুমাত্র যোগ করেছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মেয়াদ শেষ হোক বা না হোক, ভারত এখন দুই মহাশক্তির মধ্যে নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে।


