Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার উপনগরী হিসেবে পরিচিত নিউটাউন বহুদিন ধরেই পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও তুলনামূলক শান্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত (New Town)। আইটি হাব, আবাসন প্রকল্প এবং উন্নত পরিকাঠামোর কারণে এখানে বসবাস করেন নানা পেশার মানুষ। কিন্তু সেই শান্ত পরিবেশেই শনিবার গভীর রাতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যাত্রাগাছি এলাকায়, থানা থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে, মদ্যপ অবস্থায় উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও চিৎকারকে কেন্দ্র করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা? (New Town)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে যাত্রাগাছির একটি আবাসনে ঘর ভাড়া নেন এক যুবক ও এক যুবতী। শনিবার রাতে তাঁদের ঘরে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পার্টির আয়োজন করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে উচ্চস্বরে গান, চিৎকার ও হইচই। প্রতিবেশী সওকত আলি ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই শব্দদূষণ তাঁদের অসহনীয় হয়ে ওঠে। অবশেষে তিনি যুগলের ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযোগ, কথাকাটাকাটি থেকে শুরু হয় বচসা, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে উপস্থিত ছয়-সাতজন যুবক-যুবতী একসঙ্গে সওকতের উপর চড়াও হন। মারধরের ফলে তাঁর মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা মাথায় ছয়টি সেলাই করেন।
পুলিশের ভূমিকা ও গ্রেপ্তার (New Town)
ঘটনার পর সওকতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। থানা থেকে অল্প দূরত্বে এমন ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের নজরদারি ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে।

শব্দদূষণ ও নাগরিক অধিকার (New Town)
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি মারধরের ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর নাগরিক সমস্যার প্রতিফলন। গভীর রাতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বা চিৎকার শুধুমাত্র অসভ্য আচরণই নয়, এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধও হতে পারে। প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের অধিকার রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, মদ্যপ অবস্থায় দাপাদাপি করলে প্রতিবাদ জানানো কি অপরাধ? প্রতিবাদ করলেই কি হামলার শিকার হতে হবে?, পরিকল্পিত শহরে নাগরিক নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?
সহনশীলতা নাকি আগ্রাসন?
বর্তমান নগরজীবনে সহনশীলতার অভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। প্রতিবেশীর অসুবিধা বুঝে নেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আগ্রাসী মনোভাব। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নাগরিক সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও সংলাপের গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য।



