Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজতৃতীয়া। শরতের নীল আকাশ, ভেসে থাকা সাদা মেঘ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের আওয়াজে চারিদিক মাতিয়ে রাখার পরিকল্পনা করছে (Durga Puja Shopping)। সেই আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নতুন জামা, গয়না, উপহার আর ঘর সাজানোর প্রস্তুতি। আগে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাজার ঘোরা ছিল এই প্রস্তুতির মূল আকর্ষণ, যা সাহিত্যেও অমর হয়ে আছে বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র কিংবা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে ধরা পড়েছে। আর এখন সবটাই অনলাইন শপিং এর ভিড়ে হারিয়ে গেছে।

হাঁটবাজার থেকে শপিং মল (Durga Puja Shopping)
একসময় কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা নিউ মার্কেট ছিল পুজোর বাজারের প্রাণকেন্দ্র। পরিবার-পরিজন মিলে দোকানে দোকানে ঘোরা, দামাদামি, খাওয়া-দাওয়া সবই ছিল আনন্দের অঙ্গ। বিভূতিভূষণের গল্পে নতুন জামার উচ্ছ্বাস যেমন ধরা পড়েছে, তেমনই শরৎচন্দ্র জীবন্ত করে তুলেছেন গ্রামীণ হাটবাজারের কোলাহল। আজও সেই বাজারগুলির আকর্ষণ রয়ে গেলেও, নতুন প্রজন্ম ক্রমশ ঝুঁকছে মল আর অনলাইন শপিং-এর দিকে।

প্রযুক্তির ছোঁয়া (Durga Puja Shopping)
২১শ শতকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের উত্থান এই ঐতিহ্যকে পাল্টে দিয়েছে। ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন, মিণ্ত্রা কিংবা মীশো পুজোর আগে বড় বড় “বিগ ফেস্টিভ্যাল সেল” আয়োজন করে। এখন আর ক্রেতাদের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না; কয়েকটি ক্লিকেই শাড়ি, কুর্তা, জুতো বা অলঙ্কার পৌঁছে যাচ্ছে বাড়ির দোরগোড়ায়। গ্রামীণ এলাকাতেও স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের প্রসার অনলাইন কেনাকাটাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলছে।
বৈচিত্র্যের বিস্তার (Durga Puja Shopping)
আগে স্থানীয় দোকানেই কেনাকাটা সীমাবদ্ধ ছিল। এখন কলকাতার ক্রেতা অনলাইনে বারাণসীর বেনারসি বা জয়পুরের হ্যান্ডিক্রাফ্ট কিনতে পারছেন। আবার মুর্শিদাবাদের তাঁতের শাড়িও পৌঁছে যাচ্ছে মুম্বই, বেঙ্গালুরু কিংবা দিল্লিতে। এতে আঞ্চলিক শিল্পীরা লাভবান হচ্ছেন, আর ক্রেতার হাতে বিকল্পও বহুগুণ বেড়েছে। পুজোর বাজার তাই আজ ভৌগোলিক সীমা ভেঙে বৈচিত্র্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অভিজ্ঞতার পরিবর্তন (Durga Puja Shopping)
তবে বাজার শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, ছিল এক সামাজিক অভিজ্ঞতা। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বাজার ঘোরা, আড্ডা দেওয়া, খাওয়া-দাওয়া সবটাই উৎসবের অঙ্গ। এখন সেই অভিজ্ঞতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে “অ্যাড টু কার্ট” আর “অর্ডার কনফার্মেশন” পেজে। সমকালীন প্রবন্ধকাররা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক বাজার যেমন আনন্দ দিত, তেমনই সামাজিক বন্ধনকেও মজবুত করত যা ক্রমশ কমে আসছে।
চ্যালেঞ্জ কোথায়? (Durga Puja Shopping)
অনলাইন প্রতিযোগিতায় বড় দোকানদার থেকে মফস্বলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবাই চাপের মুখে। তাঁদের আয়ের বড় অংশ নির্ভর করে উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রির ওপর। কিন্তু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ছাড় ও ডিসকাউন্ট তাঁদের অবস্থান দুর্বল করছে। একই সঙ্গে “মেলামেশার বাজার সংস্কৃতি” যা একসময় বাঙালির উৎসবের অংশ ছিল তা ক্ষীণ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Fake Profile Scam: ডিজিটাল মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে কারা?
বৃষ্টি, জমা জল আর ভিড়
আজ চতুর্থী, বাজার প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। বেশিরভাগ মানুষ জামাকাপড়, অলঙ্কার, উপহার সবই কিনে নিয়েছেন। এখন অনেকে বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। অথচ চারদিকে টিপটিপ বৃষ্টি, রাস্তায় জমে থাকা জল, কোথাও হাঁটু পর্যন্ত কাদা। তবু ভিজে রাস্তার মধ্যেই ভিড় জমেছে সেলফি তুলতে, আলোর ঝলক আর ঢাকের আওয়াজে মাততে। নতুন প্রজন্মের হাতে স্মার্টফোন… একদিকে অনলাইন শপিং-এর ব্যাগে নতুন শাড়ি, অন্যদিকে রেইনকোট-ঢাকা প্যান্ডেল হপিং-এর উচ্ছ্বাস। এই ছবিই বোঝায় বাজার পাল্টেছে, অভ্যাস পাল্টেছে, কিন্তু পুজোর আনন্দ থামেনি।



