Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নজিরবিহীন পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI)। ভোটের সময় বাংলার পুলিশ অফিসাররা এবার কাজ করবেন ভিন রাজ্যে! পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনা, আসানসোলের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী এবং হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীসহ রাজ্যের মোট ২৫ জন শীর্ষ আধিকারিককে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এ বছর ভোট হতে চলেছে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিতে। এ রাজ্যের এই দুঁদে অফিসারদের মূলত ওই রাজ্যগুলির নির্বাচনী কাজ তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) নজিরবিহীন পদক্ষেপ
কমিশন (ECI) সূত্রের খবর, এই নিয়োগ হুট করে করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছে আধিকারিকদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। গত ২৪ নভেম্বর তৎকালীন মুখ্যসচিবকে প্রথম চিঠি দেয় কমিশন। এরপর ২ ডিসেম্বর, ৯ ডিসেম্বর এবং ১৬ ডিসেম্বর পরপর তিনটি রিমাইন্ডার পাঠানো সত্ত্বেও নবান্নের তরফে কোনো সদর্থক উত্তর বা তালিকা মেলেনি। রাজ্যের এই ‘অনড়’ মনোভাবের কারণেই শেষ পর্যন্ত কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই নির্দেশিকা জারি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: সিঙ্গুরের মাটি থেকে বিজেপিকে রুখে দেওয়ার শপথ মমতার!
মোট ২৫ জনের এই তালিকায় রয়েছেন ১৫ জন আইএএস (IAS) এবং ১০ জন আইপিএস (IPS) আধিকারিক। রয়েছেন, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা ছাড়াও রয়েছেন পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথন, সংখ্যালঘু দফতরের সচিব পি বি সেলিম, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিব সঞ্জয় বনসল এবং পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন। হাওড়া ও আসানসোলের দুই পুলিশ কমিশনার ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকও রয়েছেন তালিকায়।
প্রশাসনিক জটিলতা ও সংঘাতের আশঙ্কা
কমিশনের (ECI) এই নির্দেশ কার্যকর করা রাজ্যের পক্ষে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। কারণ, ভোটের সময় স্বরাষ্ট্রসচিব বা পুলিশ কমিশনারের মতো পদগুলি খালি রাখা কার্যত অসম্ভব। এই আধিকারিকদের যদি পর্যবেক্ষক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাঠানো হয়, তবে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে অথবা অন্য কাউকে সেই পদে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: সিঙ্গুর থেকে মমতার স্পষ্ট বার্তা: কৃষিজমি নয়, শিল্প হবে বিকল্প জমিতে
কমিশন (ECI) স্পষ্ট জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্দেশের প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে এবং ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারির প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত মেটাতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীন এই বৈঠক থেকেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


