Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে নির্বাচন (Election Observer Attack) কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল সোমবার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীদের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বিক্ষোভের মুখে পড়েন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক এস মুরগান। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি আটকে চড়-থাপ্পর মারেন এবং গাড়ির দরজার লক ভেঙে দেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশি ঘেরাটোপে তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসআইআর-এর শুনানি পর্ব (Election Observer Attack)
রাজ্য জুড়ে বর্তমানে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব (Election Observer Attack) চলছে। কমিশনের তরফে প্রতিদিন তথাকথিত ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারদের ডেকে নথি যাচাই ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। ভোটারদের অভিযোগ, শুনানির নামে তাঁদের অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। সেই ক্ষোভই এদিন মগরাহাটের সিরাকল হাইস্কুলে থাকা এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে বিস্ফোরিত হয়।
সূত্রের খবর… (Election Observer Attack)
সূত্রের খবর, ওই কেন্দ্রে শুনানির কাজ তদারকি করতে (Election Observer Attack) গিয়েছিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক এস মুরগান। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন গ্রামে গ্রামে গিয়ে শুনানি না করে স্কুলে কেন্দ্র খুলে মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছে। এর ফলে বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গ্রামবাসীদের দাবি
গ্রামবাসীদের দাবি, যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, এমনকি যাঁরা নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন, তাঁদেরও অযথা শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। বিনা কারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তোলেন, কেন বয়স্ক বা শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: Unnao Assault Case: উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে কুলদীপের মুক্তিতে রাশ, আপাতত জেলেই বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক
এদিনের বিক্ষোভে এসআইআর সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি উঠে আসে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকার প্রসঙ্গও। বিক্ষোভকারীরা বিশেষ পর্যবেক্ষকের সামনেই দাবি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে কাজের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে এসআইআরের নামে প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানি বাড়ছে।
এই ঘটনা ফের একবার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ জমছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও পদ্ধতি নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


