Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা (F 16 Shot Down) অবশেষে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত হল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের সীমান্তজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র গোলাগুলি ও বিমান হামলা। দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানী কাবুলে বোমা হামলা চালাতে আসে পাকিস্তানের একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান। সেই সময় আফগান বাহিনীর পাল্টা গোলায় বিমানটি ভূপাতিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এক্স-এ পোস্ট (F 16 Shot Down)
এক্স-এ পোস্ট করে একটি ভিডিও প্রকাশ করে (F 16 Shot Down) আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সেটি ধ্বংস হওয়া এফ-১৬ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি কেটিভি বাংলা। অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত এই দাবি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইসলামাবাদের নীরবতা জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান শক্তি।

কীভাবে এমন উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা সম্ভব হল? (F 16 Shot Down)
অত্যাধুনিক রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আকাশযুদ্ধে দক্ষতার (F 16 Shot Down) জন্য বিশ্বজুড়ে এই যুদ্ধবিমান পরিচিত। অন্যদিকে আফগানিস্তানের হাতে কার্যত কোনও আধুনিক বিমানবাহিনী নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে এমন উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা সম্ভব হল?সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থার সাহায্যে এমন হামলা সম্ভব হতে পারে। তবে আফগান বাহিনীর হাতে এই ধরনের অস্ত্র কীভাবে এল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
‘অপারেশন গজব লিল হক’ (F 16 Shot Down)
প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তান এফ-১৬ ছাড়াও চিনের তৈরি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল। সে সময় ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এ. পি. সিং দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের একাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সেই দাবি অস্বীকার করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের এফ-১৬ নিয়ে বিতর্ক সামনে আসায় পুরনো ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। পাকিস্তান তাদের সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’। শুক্রবার মাঝরাত থেকে কাবুল ছাড়াও আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার-এ ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে কাবুলের তালেবান প্রশাসন হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলিও ঘটনাস্থল থেকে স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।
আতঙ্ক চরমে
এদিকে, পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করে এক্সে একটি পোস্ট করেছিলেন তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র। পরে সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়, যা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ ঘোষণার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক চরমে। বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবাগুলিতে চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: Pakistan Afghanistan War: সীমান্ত সংঘাতে যুদ্ধ ঘোষণা পাকিস্তানের! পাক-আফগান সম্পর্কে বিস্ফোরক মোড়
আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দুই দেশের তরফেই সরকারি বিবৃতি ও সামরিক দাবি-দাওয়া সামনে আসছে। তবে মাটির পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহল নজর রাখছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতের দিকে।


