Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনীতিতে ভোটের আগে নতুন মাত্রা যোগ করল এক অভিনব প্রতিবাদ (Farmers Protest)। চাষিদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কংগ্রেস প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের এই প্রতীকী পদক্ষেপ শুধু সাধারণ মানুষের নজরই কাড়েনি, রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

আলু-পেঁয়াজের মালায় প্রতিবাদের ভাষা (Farmers Protest)
পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল গলায় আলু ও পেঁয়াজের মালা পরে কালনার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে যান। সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের মন্দির দর্শন নতুন কিছু নয়, কিন্তু তাঁর এই ব্যতিক্রমী সাজই ঘটনাটিকে অন্য মাত্রা দেয়। মন্দিরে উপস্থিত ভক্ত ও স্থানীয় মানুষ প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও, খুব দ্রুতই সেই মালার অন্তর্নিহিত বার্তা তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি নিছক নজরকাড়া কৌশল নয়, বরং কৃষকদের দুর্দশার প্রতীকী প্রতিবাদ।
চাষিদের দুরবস্থার বিরুদ্ধে সরব (Farmers Protest)
রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানান, গ্রামগঞ্জের কৃষকরা আলু ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ফসলের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। বাজারে দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। তিনি বলেন, “এই আলু-পেঁয়াজই চাষিদের রক্ত-ঘামের ফসল। অথচ সেই ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তারা আজ দিশেহারা। আমার এই মালা সেই প্রতিবাদেরই প্রতীক।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি কৃষি নীতির দিকে আঙুল তুলেছেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ধর্মস্থানে প্রার্থনা, রাজনীতিতে বার্তা (Farmers Protest)
সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থী জানান, তিনি মায়ের আশীর্বাদ চাইতে এসেছেন যাতে আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেও তাঁর প্রতিবাদের বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ধর্ম ও রাজনীতির এই মিশ্রণ গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্দির থেকে আন্দোলনের মঞ্চে (Farmers Protest)
শুধু প্রতীকী প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি ঘোষণা করেন, মন্দির থেকে বেরিয়ে সরাসরি এসডিও অফিসে গিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসবেন। তাঁর দাবি স্পষ্ট সরকারকে চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে আলু ও পেঁয়াজ কিনতে হবে
কৃষকদের জন্য স্থায়ী মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, তিনি আরও জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁর এই প্রতিবাদ চলবে।
নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
ভোটের আগে এই ধরনের অভিনব প্রতিবাদ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাধারণত সভা, মিছিল বা পোস্টারের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়, কিন্তু এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ মানুষের মনে দ্রুত প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কৃষকপ্রধান এলাকাগুলিতে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: Sandy Saha: কী হয়েছিল সেই ৪০ মিনিটে… স্যান্ডির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
রাজনীতির সংযোগ
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে ভারতের কৃষি অর্থনীতির চিরাচরিত সমস্যা ফসলের ন্যায্য মূল্য। আলু ও পেঁয়াজের মতো পণ্যের দাম ওঠানামা প্রায়শই কৃষকদের বিপাকে ফেলে। রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের এই প্রতিবাদ সেই বৃহত্তর সমস্যারই প্রতিফলন। এটি শুধু একটি নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরার একটি প্রয়াস বলেই মনে করছেন অনেকেই।



