Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার শহর আবারও ভোরবেলায় (Fire Breaks at Lalbazar) অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে কেঁপে উঠল। শনিবার সকালে লালবাজারের কাছে এজরা স্ট্রিটের একটি বড় গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। সকাল প্রায় পাঁচটা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘন কালো ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গুদামের চারদিকে ছড়াতে শুরু করে।
আগুন নেভানোর চেষ্টা (Fire Breaks at Lalbazar)
দমকলের মোট ২৩টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে (Fire Breaks at Lalbazar) ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে, ল্যাডার ব্যবহার করে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এলাকার ঘিঞ্জি অবস্থান এবং গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সামগ্রী আগুন নেভানোকে কঠিন করে তুলেছে।
আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় (Fire Breaks at Lalbazar)
প্রাথমিক সূত্রের খবর, গুদামে প্রচুর বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, তার এবং কিছু দাহ্য উপকরণ মজুত ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। কেউ বুঝে ওঠার আগেই আগুনের শিখা গুদামের উপরের অংশ গিলে নেয় এবং চারপাশের আকাশ ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের মতো শব্দও শোনা গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই যে পাশের আবাসন এবং দোকানগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত কয়েকটি দোকান ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল?
কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও দমকল নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বহু স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। গুদামে যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না-এ কথাও স্বীকার করেছেন এলাকার কাউন্সিলর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই গুদাম ও আশপাশের বাড়িগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতি চলছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগেও একই এলাকায় আগুন লেগেছিল, কিন্তু সেই ঘটনার পরেও কোনও বড় ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও দোকান থেকে লোকজনকে সরিয়ে দিতে শুরু করে। এখনও পর্যন্ত কেউ ভিতরে আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা প্রায় অসম্ভব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে কাজ করা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দমকলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এদিকে দমকলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, দমকলে খবর দেওয়ার পরও তারা দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যার ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের বহু বছরের কাঠামো ও জমা মাল মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে-এখন তাঁদের সামনে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।



