Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সপ্তাহে চার দিন কাজ আর টানা তিন দিনের ছুটি শুনতে যেন স্বপ্নের মতোই লাগে (Week Off)। দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে পাঁচ বা ছয় দিন কাজ করাই ছিল ভারতীয় কর্মজীবনের চেনা ছবি। কিন্তু নতুন শ্রম কোড সেই চেনা কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শ্রম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, সঠিক নিয়ম মানলে চার দিন কাজের পর তিন দিনের সবেতন ছুটি আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবেও সম্ভব।

নতুন শ্রম কোডে কী বদল আসছে? (Week Off)
নতুন শ্রম বিধি অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট কাজের সময় আগের মতোই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে কাজের দিনের সংখ্যা কমিয়ে চার করা যাবে, যদি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা করে কাজ করা হয়। অর্থাৎ সপ্তাহে চার দিন × ১২ ঘণ্টা = ৪৮ ঘণ্টা। এই হিসেব মিললেই কর্মীরা তিন দিনের অখণ্ড ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন। শ্রম মন্ত্রক সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করলে সেটিকে ওভারটাইম হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং তার জন্য দ্বিগুণ হারে মজুরি দিতে হবে।
দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ মানে কি টানা খাটুনি? (Week Off)
এখানেই নতুন শ্রম কোড নিয়ে একটি বড় ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ মানেই একটানা ১২ ঘণ্টা অফিসে বসে থাকা এমনটা নয়। নতুন বিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাজের মাঝখানে বিশ্রাম, খাওয়াদাওয়া এবং বিরতির সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ মানবিক দিকটি মাথায় রেখেই কাজের সময় ভাগ করা হবে।

পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে (Week Off)
শ্রম মন্ত্রক পরিষ্কার করে জানিয়েছে, সপ্তাহে চার দিন কাজের মডেল বাধ্যতামূলক নয়। কোনও কর্মী বা সংস্থাকে জোর করে এই ব্যবস্থায় আনা হবে না। কোনও অফিস চাইলে আগের মতো সপ্তাহে ছয় দিন কাজ এবং এক দিন ছুটির ব্যবস্থাও বজায় রাখতে পারে। পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে, সংস্থার নিজস্ব নীতি, রাজ্য সরকারের শ্রম আইন, কাজের প্রকৃতি ও শিল্পক্ষেত্রের ধরন, অর্থাৎ কর্মী ও সংস্থা দু’পক্ষের সম্মতির উপরেই সিদ্ধান্ত হবে।
কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি (Week Off)
নতুন শ্রম কোডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি। এতদিন স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় এই শ্রেণির কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত ছিলেন। নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও পাবেন ছুটি, স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক সুরক্ষা মিলবে, একই ধরনের কাজ করলে স্থায়ী কর্মীদের সমান মজুরি দিতে হবে, এর ফলে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: Aeroplane: রাজধানী শহরে ঘোর স্মগ: বিমান পরিষেবায় ব্যাপক গোলযোগ, বিমান নামাতে বিশেষ ব্যবস্থা CAT III
ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি
প্রথমবারের মতো গিগ ও ফ্রিল্যান্সারদের শ্রম আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আধুনিক কর্মসংস্থানের বাস্তবতা মেনে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা। এতে এই অনিশ্চিত কর্মজীবনেও সামাজিক সুরক্ষার একটি কাঠামো তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন শ্রম কোড আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছ। প্রোটিভিটি (Protiviti)-র ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পুনীত গুপ্তের কথায়, “এই কোড খুবই ইতিবাচক। কর্মীদেরও সামাজিক জীবন রয়েছে, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলিও নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করতে পারবে। বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে। গিগ এবং ফ্রিল্যান্সারদের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে ভালো দিক।”



