Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার সল্টলেক অঞ্চলে অবস্থিত বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় (Kasturi Goswami)। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন সাংসদ ও সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ও মুখ্য সচেতক ডা. শঙ্কর ঘোষ। এই সম্মেলন শুধু রাজনৈতিক বার্তাবাহকই নয়, বরং দলের সম্প্রসারণ ও মতাদর্শগত অবস্থানকে স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হয়ে ওঠে।

সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের যোগদান (Kasturi Goswami)
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে স্বাগত জানানো হয়। নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষদের যুক্ত হওয়া দলের শক্তি ও জনভিত্তিকে আরও মজবুত করবে।
আন্দোলনের ময়দান থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে (Kasturi Goswami)
শ্রী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি আর.জি. কর কাণ্ডসহ একাধিক সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেন। অতীতে তিনি এনএসজি-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্ডারকভার এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানানো হয়। তাঁর অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কাজ রাজনৈতিক সংগঠনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে নেতৃত্বের আশা।

কেবিসি বিজয়ীর রাজনৈতিক অধ্যায় (Kasturi Goswami)
‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ২০২৫’-এর বিজয়ী শ্রী বিপ্লব বিশ্বাসও এদিন বিজেপিতে যোগদান করেন। তিনি সিআরপিএফ-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিএসপি পদমর্যাদা) এবং মাওবাদী ও জঙ্গি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তাঁর জ্ঞান দলীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা পাবে বলেই মত নেতৃত্বের।
বামফ্রন্টের পরিবার থেকে বিজেপিতে (Kasturi Goswami)
প্রাক্তন বামফ্রন্ট মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী-র কন্যা ও আইনজীবী সুস্রী কস্তুরী গোস্বামীর যোগদান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক সময়ের বামপন্থী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পরিবারের সদস্যের বিজেপিতে যোগদান রাজ্যের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরএসএস-সংযুক্ত চিকিৎসক ডা. অক্ষয় বিনজরাজকা
ডা. অক্ষয় বিনজরাজকা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-এর সঙ্গে যুক্ত এবং পেশাগত জীবনে বিভিন্ন উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনিও দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। সংগঠনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে নেতৃত্বের বক্তব্য।
বই প্রকাশ ও রাজনৈতিক বার্তা (Kasturi Goswami)
সাংবাদিক সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “আঁধারের কত কথা” শীর্ষক একটি বইয়ের প্রকাশ। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, এই বইয়ে পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত “মহাজঙ্গলরাজ”-এর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিভিন্ন ঘটনা ও তথ্য সংকলিত হয়েছে বলে জানানো হয়। দলের বক্তব্য, জনগণের সামনে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই এই প্রকাশনার মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
ভবিষ্যৎ রাজনীতি
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁদের মতে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আগত নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা, সততা ও নিষ্ঠা রাজ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে। নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট দল শুধু রাজনৈতিক সম্প্রসারণ নয়, বরং আদর্শগত লড়াইয়ের ময়দানেও নিজেদের সক্রিয় রাখতে চায়। নতুন মুখগুলির সংযোজন সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ।



