Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষায় বহুমুখী কৌশল নিচ্ছে ভারত সরকার(Fuel Supply)। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরবরাহ ও চাহিদা দুই দিকেই পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে পেট্রল-ডিজেল রফতানি সীমিত করা, রাশিয়া থেকে বেশি অপরিশোধিত তেল কেনা এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এলপিজি ব্যবহারে লক্ষ্যভিত্তিক রেশনিং চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
সরবরাহ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ (Fuel Supply)
অঞ্চলে সংঘাত বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। টানা দ্বিতীয় দিন হরমুজ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল কম থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে।
এলপিজি নিয়ে বড় সমস্যা
সবচেয়ে ঝুঁকিতে এলপিজি। দেশের মোট চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমদানিনির্ভর, যার ৮৫–৯০ শতাংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। বর্তমান মজুত ও পথে থাকা কার্গো মিলিয়ে নতুন চালান বন্ধ হলে দুই সপ্তাহেরও কম সময় চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে শিল্পমহলের ধারণা। আইওসি, বিপিসিএল ও এইচপিসিএল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প জ্বালানি-সুবিধা আছে এমন পরিবারে লক্ষ্যভিত্তিক রেশনিং বিবেচনায় রয়েছে।
রফতানি কমানোর ভাবনা (Fuel Supply)
ভারত বর্তমানে পেট্রলের এক-তৃতীয়াংশ, ডিজেলের এক-চতুর্থাংশ ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের প্রায় অর্ধেক রফতানি করে। দেশীয় চাহিদা মেটাতে রফতানি কমানোর বিকল্পও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মজুত অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল ১৭–১৮ দিন, পেট্রল-ডিজেল ২০–২১ দিন এবং এলএনজি ১০–১২ দিন চলতে পারে।
আরও পড়ুন: Force Routemarch: SIR শেষের আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ
বাড়বে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি (Fuel Supply)
বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং জ্বালানি পাওয়া ও সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি বিলের ওপর চাপ বাড়তে পারে।



