Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই আকাশ, নক্ষত্র ও গ্রহ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ ছিল না (Gagarin Tube)। রাতের আকাশের অগণিত তারা মানুষের মনে জন্ম দিয়েছে রহস্য, বিস্ময় ও অনুসন্ধিৎসা। সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞান যত এগিয়েছে, মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি ততই প্রসারিত হয়েছে। তবে পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন একসময় ছিল একেবারেই কল্পনার মতো। সেই কল্পনাই ১৯৬১ সালে বাস্তব রূপ পায়, যখন পৃথিবীর মানুষ প্রথমবারের মতো মহাকাশে পা রাখে।
প্রথম মানব মহাকাশযাত্রা (Gagarin Tube)
১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ইতিহাস সৃষ্টি করেন সোভিয়েত নভশ্চর ইউরি গ্যাগারিন। ভোস্টক-১ নামের মহাকাশযানে চড়ে তিনি মাত্র ১০৮ মিনিটে পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন। যদিও ভ্রমণের সময়টা ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার গুরুত্ব ছিল অসীম। গ্যাগারিনই ছিলেন প্রথম মানুষ, যিনি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে মহাকাশে প্রবেশ করেন এবং জীবিত ফিরে আসেন। এই অভিযান প্রমাণ করে দিয়েছিল, মানুষ মহাকাশে বেঁচে থাকতে পারে এবং সেখানে দৈনন্দিন কিছু কাজও করতে সক্ষম।
মহাকাশে খাওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা (Gagarin Tube)
এই অভিযানে সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় ছিল—মহাকাশে প্রথম মানুষ কীভাবে খাবার খেলেন? শূন্য মাধ্যাকর্ষণে খাবার খাওয়া পৃথিবীর মতো সহজ নয়। সাধারণ খাবার ভেসে যেতে পারে, শ্বাসনালীতে ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে অথবা মহাকাশযানের যন্ত্রপাতি নষ্ট করতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা খাবার প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
ইউরি গ্যাগারিনকে দেওয়া হয়েছিল দু’ধরনের খাবার—একটি অ্যালুমিনিয়ামের টিউবে ছিল গরুর মাংস ও লিভারের পেস্ট, আরেকটিতে চকলেট সস। এগুলো দেখতে অনেকটা টুথপেস্ট টিউবের মতো ছিল। গ্যাগারিন সেই টিউব মুখে চেপে ধরে চাপ দিয়ে খাবার বের করে খেয়েছিলেন। স্বাদের দিক থেকে খাবারগুলো ছিল একেবারেই স্বাভাবিক, কিন্তু খাওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল পৃথিবীর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।
চ্যালেঞ্জ ও সফলতা (Gagarin Tube)
সেই সময় বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শূন্য মাধ্যাকর্ষণে খাবারের কণা ভেসে বেড়ানো আটকানো। যদি খাবার ভেসে গিয়ে যন্ত্রপাতির ভেতরে চলে যেত, তবে তা বিপজ্জনক হতে পারত। আবার খাওয়ার সময় খাবার নাকে বা গলায় ঢুকে নভশ্চরের প্রাণহানি ঘটাতে পারত। তাই খাবারকে পেস্ট বা তরল আকারে তৈরি করা হয়েছিল। গ্যাগারিন জানিয়েছিলেন, খাওয়ার সময় বিশেষ কোনো অসুবিধা হয়নি, বরং সবকিছু প্রত্যাশার মতোই স্বাভাবিক লেগেছিল। এই সাফল্য প্রমাণ করেছিল যে মানুষ মহাকাশে খাওয়াদাওয়া করতে সক্ষম। এটি ছিল মহাকাশ গবেষণার জন্য এক বিশাল মাইলফলক।
মহাকাশের খাবারের বিবর্তন (Gagarin Tube)
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির অগ্রগতিতে মহাকাশচারীদের খাদ্যতালিকায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আজকের দিনে তারা শুধু পেস্ট জাতীয় খাবারই খান না, বরং শুকনো ফল, বাদাম, বিস্কুট, রুটি, এমনকি ফ্রিজে শুকানো ফলমূল, সবজি, স্যুপ, পিৎজা ও বিশেষ ধরনের আইসক্রিম পর্যন্ত খেতে পারেন। খাবারগুলো সাধারণত ভ্যাকুয়াম সিল করা প্যাকেটে রাখা হয় এবং খাওয়ার আগে তাতে পানি মিশিয়ে নিতে হয়।
বর্তমানে মহাকাশ স্টেশনে থাকা নভশ্চররা পৃথিবীর মতোই নিয়মিত খাবার খান, যদিও খাওয়ার ধরণ ও পরিবেশন পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। খাবার যাতে ভেসে না যায়, সেজন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও কনটেইনার ব্যবহার করা হয়।
মহাকাশে খাওয়ার তাৎপর্য (Gagarin Tube)
প্রথম মহাকাশযাত্রায় খাবার খাওয়ার সফলতা শুধু একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি। মানুষ মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকতে পারবে কিনা, সেটি অনেকাংশে নির্ভর করে সেখানে খাদ্যগ্রহণের সক্ষমতার উপর। গ্যাগারিনের সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছিল, মানবদেহ মহাকাশের পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: Bengali literature: সাহিত্য কী? খায় না মাথায় দেয়!
আজকের দিনে চাঁদে বা মঙ্গলে ভ্রমণের যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে খাদ্য প্রযুক্তির এই দীর্ঘ অগ্রযাত্রা। মহাকাশের খাবারের বিবর্তন দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের কল্পনা আর বিজ্ঞান একসাথে কাজ করলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।



