Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাতের আকাশে ঝিকমিক করা অসংখ্য নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে একটাই প্রশ্ন করে এসেছে এই বিশাল মহাবিশ্বে কি আমরা একা (Galaxies in Universe)? কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস থেকে শুরু করে আধুনিক রেডিও টেলিস্কোপ সর্বত্রই চলছে সেই চিরন্তন অনুসন্ধান, ভিনগ্রহী প্রাণের খোঁজ। কিন্তু, সাম্প্রতিক এক গবেষণা যেন সেই আশায় খানিকটা জল ঢেলে দিল।

আলোকবর্ষ দূরে সম্ভাব্য সভ্যতা (Galaxies in Universe)
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে আয়োজিত ‘EPSC–DPS 2025’ সম্মেলনে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন (Galaxies in Universe), যদি আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গায় কোনও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সভ্যতা থেকে থাকে, তবে তাদের অবস্থান আমাদের থেকে হতে পারে গড়ে ৩৩,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। এই দূরত্ব কল্পনারও অনেক বাইরে। এক আলোকবর্ষ মানে আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করে প্রায় ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। সেই হিসেবে, ভিনগ্রহী প্রতিবেশীরা থাকলেও তারা আমাদের থেকে এত দূরে যে, বাস্তবে যোগাযোগ করা প্রায় অসম্ভব।
সভ্যতা টিকে থাকা কতটা সম্ভব? (Galaxies in Universe)
গবেষকদের মতে, কোনও বুদ্ধিমান সভ্যতার অস্তিত্ব টিকে থাকতে হলে ন্যূনতম ২ লক্ষ ৮০ হাজার বছর টিকে থাকতে হবে। বাস্তবে, সেই সময়কাল আরও অনেক দীর্ঘও হতে পারে। এখানে একটি তুলনা টানা যায় মানব সভ্যতার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের হলেও, আমরা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হয়েছি মাত্র কয়েকশো বছর আগে। আর এই অল্প সময়েই আমরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা, ও মহামারীর মতো সঙ্কটে জর্জরিত হয়েছি। তাহলে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এক সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা, এবং সেই সভ্যতার প্রযুক্তিকে এমনভাবে বিকশিত করা যে তারা মহাজাগতিক যোগাযোগ করতে পারে তা এক প্রায় অসম্ভব চ্যালেঞ্জ।
‘ড্র্যাক সমীকরণ’ ও সম্ভাবনার হিসাব (Galaxies in Universe)
এই গবেষণার তাত্ত্বিক ভিত্তি মূলত ড্র্যাক সমীকরণ ১৯৬১ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক ড্র্যাকের প্রস্তাবিত এক সূত্র, যা মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান সভ্যতার সম্ভাবনা নিরূপণ করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অসংখ্য সভ্যতা হয়তো সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু তারা টিকতে পারেনি। কেউ হয়তো নিজেদের তৈরি যুদ্ধ বা পরিবেশগত সঙ্কটে ধ্বংস হয়েছে, কেউ আবার কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ফলে, একই সময়ে দু’টি উন্নত সভ্যতার টিকে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
যোগাযোগের অদম্য বাধা (Galaxies in Universe)
ধরা যাক, যদি আজ ভিনগ্রহীদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা পাঠাই, তবে সেই বার্তা তাদের কাছে পৌঁছতে সময় লাগবে ৩৩,০০০ বছর। আর তারা যদি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়, তবে সেটি পৃথিবীতে পৌঁছবে আরও ৩৩,০০০ বছর পর! অর্থাৎ, একবার বার্তা আদান–প্রদানে সময় লাগবে মোট ৬৬,০০০ বছর। এই বিপুল সময়ের ব্যবধানে যোগাযোগের কোনও বাস্তব অর্থই থাকে না।
আরও পড়ুন: McMurdo Dry Valleys: পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মঙ্গল গ্রহ কোথায়?
কোথায় সবাই? (Galaxies in Universe)
এই গবেষণার ফলাফল ‘ফার্মি প্যারাডক্স’-এর ও এক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে পারে। বিখ্যাত পদার্থবিদ এনরিকো ফার্মি প্রশ্ন করেছিলেন, “যদি মহাবিশ্বে কোটি কোটি গ্রহ থাকে, তবে ভিনগ্রহীদের কোনও চিহ্ন আমরা এখনও পাইনি কেন?” এই গবেষণা বলছে, উত্তর হয়তো সহজ,
- হয় তারা আমাদের থেকে এতটাই দূরে যে তাদের সঙ্কেত এখনও আমাদের কাছে পৌঁছোয়নি।
- নয়তো তারা আমাদের খোঁজার আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। টিকে থাকতে পারব তো?
ভিনগ্রহীদের খোঁজের এই অনন্ত সফর শেষ পর্যন্ত এক গভীর বার্তা দেয় অন্য কোনও সভ্যতার অস্তিত্ব খোঁজার আগে নিজেদের সভ্যতা টিকিয়ে রাখা-ই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক দায়িত্ববোধও বাড়াতে হবে, নইলে আমরা হয়তো সেই বিলুপ্ত সভ্যতাদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলব।



