Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে (Gen-Z)। বহুদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে থাকা পুরনো দলগুলির সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তি। তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের আবহে যে পরিবর্তনের স্রোত তৈরি হচ্ছিল, এই নির্বাচনের ফলাফল তারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট (Gen-Z)
গত কয়েক মাস ধরেই নেপালের রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশ, যাদের সাধারণত জেন–জি (Gen-Z) বলে অভিহিত করা হয়, তারা বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব, উন্নয়নের অভাব এবং রাজনৈতিক অদক্ষতার অভিযোগ উঠতে থাকে। এই আন্দোলনের চাপেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারাতে হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা অলি–র নেতৃত্বাধীন সরকারকে। তাঁর দল নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (একীভূত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) দীর্ঘদিন ধরে নেপালের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হলেও এবার ভোটের লড়াইয়ে তারা বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে নতুন শক্তির উত্থান (Gen-Z)
প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেরাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। নেপালের জনপ্রিয় সংবাদপত্র কাঠমান্ডু পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতেই এগিয়ে রয়েছে এই নতুন রাজনৈতিক দল। এই ফলাফল যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। বহু বছর ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা পুরনো দলগুলির সামনে এটি এক বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

পুরনো দলগুলির দুর্বল ফল (Gen-Z)
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। Communist Party of Nepal (Unified Marxist–Leninist) বর্তমানে মাত্র ৫টি আসনে এগিয়ে। Nepali Congress, যার অন্যতম শীর্ষ নেতা Gagan Thapa, তারা ৪টি আসনে লিড করছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী Pushpa Kamal Dahal (প্রচণ্ড)-এর নেতৃত্বাধীন Communist Party of Nepal (Maoist Centre) ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী দলগুলির জনপ্রিয়তা এবার বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
রাজধানীতে জয়ের দাবি RSP–র (Gen-Z)
ইতিমধ্যেই Rastriya Swatantra Party তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়ের দাবি করেছে। এই আসনগুলি হলো, কাঠমান্ডু–১ , কাঠমান্ডু–৭, কাঠমান্ডু–৮, দলীয় সূত্রের দাবি, এই তিনটি আসনে যথাক্রমে রঞ্জু দর্শনা, গণেশ পারাজুলি এবং বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা বিজয়ী হয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত নেপালের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনি।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
তরুণ ভোটারদের ভূমিকা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে তরুণ ভোটাররা। নেপালের নতুন প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দুর্নীতি, অদক্ষ প্রশাসন এবং বারবার সরকার পরিবর্তনের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছিল। এই হতাশা থেকেই তারা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়া তরুণদের প্রচার এবং আন্দোলন নতুন দলগুলিকে জনপ্রিয়তা পেতে সাহায্য করেছে।



