Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি গভীর প্রভাব ফেলেছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে (Global Conflict)। সংঘাতের জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী মাঝপথে আটকে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু ভারতীয় নাগরিক, পর্যটক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থী। এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ৪ মার্চ একদিনেই ৫৮টি বিশেষ ফ্লাইট চালানোর ঘোষণা করেছে।

যুদ্ধের আঁচে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল (Global Conflict)
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করায় বিমান সংস্থাগুলিকে বাধ্য হয়ে একাধিক রুট বাতিল বা পরিবর্তন করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। সূত্রের খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির প্রায় ১,২২১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি সংস্থাগুলির ৩৮৮টি ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়েছে। শুধুমাত্র গত তিন দিনেই আন্তর্জাতিক স্তরে ১,১১৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বহু যাত্রী বিদেশে আটকে পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
৫৮টি বিশেষ ফ্লাইট (Global Conflict)
এই সঙ্কট মোকাবিলায় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ৪ মার্চ ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক গন্তব্যে মোট ৫৮টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে দেশের প্রধান বিমান সংস্থাগুলিকে একযোগে কাজে লাগানো হয়েছে, IndiGo একাই ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা Air India এবং তার সহায়ক সংস্থা Air India Express মিলিতভাবে ২৩টি ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সূচি তৈরি করা হয়েছে।

খাড়ি অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত সহায়তা (Global Conflict)
খাড়ি অঞ্চল থেকেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় Emirates এবং Etihad Airways মিলিয়ে মোট ৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে।
সাময়িক স্থগিত পরিষেবা ও সতর্কতা (Global Conflict)
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় Air India এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত United Arab Emirates, Saudi Arabia, Israel এবং Qatar-এ অধিকাংশ পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে বিমানের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে রিফান্ড নিশ্চিত করতে, যাত্রীদের পুনরায় বুকিংয়ে সহায়তা করতে, বিভ্রান্তিকর তথ্য না দিয়ে নির্ভুল ও সময়োপযোগী আপডেট প্রদান করতে

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
কনসুলার সাপোর্ট ও কূটনৈতিক সমন্বয়
বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের সহায়তায় কনসুলার সাপোর্ট জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট বার্তা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হল বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক আকাশপথের নিরাপত্তা মূল্যায়ন সাপেক্ষে পরবর্তী ফ্লাইট সূচি নির্ধারণ করা হবে।



