Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল গুজরাতের সৌরাষ্ট্র অঞ্চল।বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত রাজকোট জেলার একাধিক এলাকায় বারবার কম্পনের জেরে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন মানুষজন(Gujrat)। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজকোটের উপলেটা, ধোরাজি ও জেটপুর—এই তিনটি তালুকে মোট ১২ থেকে ২১ বার পর্যন্ত ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩.৮ পর্যন্ত।
১২ ঘণ্টায় বারবার কেঁপে উঠল সৌরাষ্ট্র (Gujrat)
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত একের পর এক ভূকম্পনে কেঁপে উঠল গুজরাতের সৌরাষ্ট্র অঞ্চল। রাজকোট জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজকোট জেলার অন্তত তিনটি তালুকে মোট ১২ থেকে ২১ বার পর্যন্ত ভূকম্পন হয়েছে। কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে সর্বনিম্ন ১.৪ থেকে সর্বোচ্চ ৩.৮ পর্যন্ত।
কম্পনের পর থেকেই আতঙ্ক
প্রথম ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ। কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৩ এবং এর উপকেন্দ্র ছিল রাজকোট জেলার উপলেটা শহরের কাছাকাছি এলাকায়। এই প্রথম কম্পনের পর থেকেই আতঙ্কের সূত্রপাত। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ছোট ছোট কম্পনে কেঁপে ওঠে এলাকার ঘরবাড়ি। অনেক জায়গায় আলমারি, ফ্যান ও আসবাবপত্র নড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বারবার কম্পনে আতঙ্ক বেড়ে যায়
ভূমিকম্পের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও বারবার কম্পনের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কার্যত এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি পাননি তাঁরা। প্রথম কম্পনের পরই বহু মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন এবং রাতভর খোলা মাঠ, রাস্তার ধারে বা খালি জায়গায় আশ্রয় নেন। অনেকে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটান।
একাধিক ছোট কম্পন
রাজকোটের জেলাশাসক ওমপ্রকাশ জানিয়েছেন, উপলেটা, ধোরাজি এবং জেটপুর—এই তিনটি তালুকে মোট ২১ বার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। কোনও কোনও কম্পনের মাত্রা ছিল মাত্র ১.৪, আবার সর্বোচ্চ কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৮। প্রশাসনের মতে, একাধিক ছোট কম্পনের সম্মিলিত প্রভাবেই মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ে।
রাজকোটে ভূমিকম্পের ‘সোয়ার্ম’ আতঙ্ক
এদিকে গান্ধীনগরের ইন্সটিটিউট অফ সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে, তাদের যন্ত্রে মোট ১২টি ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে। এই কম্পনগুলির মাত্রা ছিল ২.৬ থেকে ৩.৮-এর মধ্যে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সব ক’টি ভূকম্পনের উপকেন্দ্রই ছিল উপলেটা শহরের পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। বিশেষজ্ঞরা এই ধারাবাহিক ভূকম্পনকে ‘আর্থকোয়েক সোয়ার্ম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির আশঙ্কা কম (Gujrat)
ভূকম্পন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আর্থকোয়েক সোয়ার্ম’ সাধারণ ভূমিকম্পের থেকে কিছুটা আলাদা প্রকৃতির। ভূগর্ভে আগে থেকেই থাকা ফাটলের মধ্যে জল প্রবেশ করে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ জমে গিয়ে স্ট্রেন সৃষ্টি করে এবং সেই স্ট্রেন একাধিক ছোট ছোট ভূকম্পনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মুক্তি পায়। সাধারণত এই ধরনের ভূকম্পনের মাত্রা কম হয় বলেই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
সতর্কতায় ঘাটতি রাখছে না প্রশাসন (Gujrat)
তবে সতর্কতার কোনও ঘাটতি রাখতে চাইছে না জেলা প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও পুরনো ও নড়বড়ে বাড়িগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ওই সব বাড়িতে বসবাসকারী মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো ভবনে চলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও স্কুলগুলিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সতর্ক থাকার আবেদন (Gujrat)
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। ভূকম্পনের সময় কী করণীয় এবং কীভাবে নিরাপদে থাকা যায়, সে বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



