Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে। এবার হামলার লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট(সমুদ্রের জল শোধনের কারখানা), যা কোটি মানুষের পানীয় জলের প্রধান উৎস(Gulf War Crisis)।
কী ঘটেছে? (Gulf War Crisis)
রবিবার বাহরিন দাবি করেছে, ইরানের একটি ড্রোন তাদের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে আঘাত করেছে এবং সেখানে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও দেশটির পানি ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে এখনো পানির সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েনি।
ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ৩০টি গ্রামের জল সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্চে একের পর এক এলাকায় হামলা
এর আগে মার্চ মাসে ইরানের হামলায় দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরাহ বিদ্যুৎ ও জল কমপ্লেক্স, এবং কুয়েতের দোহা ওয়েস্ট প্ল্যান্টের কাছাকাছি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্ল্যান্ট? (Gulf War Crisis)
ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও দূষণ সরিয়ে পানীয় জল তৈরি করে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে স্বাভাবিক মিঠা পানির উৎস খুবই কম, তাই তারা এই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।
বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে।
কুয়েতের প্রায় ৯০% পানীয় জল আসে এসব প্ল্যান্ট থেকে
ওমানের ৮৬%
সৌদি আরবের ৭০%
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ৪২%
সম্ভাব্য সংকট (Gulf War Crisis)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস হলে অনেক শহর কয়েক দিনের মধ্যেই পানীয় জল সংকটে পড়তে পারে। একটি পুরনো সিআইএ বিশ্লেষণ বলছে, বড় প্ল্যান্ট ধ্বংস হলে কিছু শহর এক সপ্তাহের মধ্যে খালি করতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব এলাকায় হামলা যুদ্ধকে সরাসরি মানবিক সংকটের রূপ দিতে পারে, কারণ এগুলো শুধু পরিকাঠামো নয় উপসাগরীয় অঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনরেখা।



