Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে প্রথমবারের মতো আইনি অনুমতিতে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’-র মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করলেন হরিশ রানা(Harish Death)। দিল্লির এইমস (AIIMS)-এ দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বাবা-মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু হল হরিশের।
গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাতে শয্যাশায়ী (Harish Death)
২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান হরিশ। একটি পেয়িং গেস্ট আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি ভেজিটেটিভ স্টেটে চলে যান। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্র্যাকিওস্টমি টিউব এবং খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি।
মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার সুপ্রিম কোর্টের
১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ প্রদান করে। আদালত দুইটি মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত পর্যালোচনা করে এই ঐতিহাসিক রায় দেয় এবং একইসঙ্গে সরকারকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া নিয়ে স্পষ্ট আইন প্রণয়নের আহ্বান জানায়।
এইমস-এ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে (Harish Death)
রায়ের তিনদিন পর হরিশকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমস-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, এমনভাবে চিকিৎসা প্রত্যাহার করতে হবে যাতে তাঁর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন অ্যানেস্থেশিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সীমা মিশ্রা। দলে নিউরোসার্জারি, সাইকিয়াট্রি ও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরাও ছিলেন।
আরও পড়ুন: Chaturangini Sena: ২ লক্ষ লোকের নয়া সেনা! চতুরঙ্গিনী সেনা-র নেপথ্যে কোন বিশেষ তথ্য ?
অবশেষে চিরশান্তি (Harish Death)
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ধাপে ধাপে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। অবশেষে ৩১ বছর বয়সে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন হরিশ রানা ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রেখে।



