Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুম্বই থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে (Hijab Discrimination) ভিরারের যশবন্ত নগর এলাকায় একটি ডি-মার্ট দোকানকে ঘিরে একটি খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। নালাসোপাড়া পশ্চিমের বাসিন্দা এক মুসলিম মহিলা অভিযোগ করেছেন, তিনি হিজাব পরেছিলেন বলেই তাঁকে দোকানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ংকর হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পোশাক নিয়ে কটূক্তি (Hijab Discrimination)
অভিযোগকারী মহিলা জানান, তিনি স্বাভাবিকভাবে (Hijab Discrimination) কেনাকাটা করছিলেন। সেই সময় দোকানের ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পোশাক নিয়ে কটূক্তি শুরু করেন। তাঁকে বলা হয়, তিনি মুসলিম হওয়ায় সেখানে থাকা উচিত নয় এবং তাঁকে “পিছিয়ে থাকতে” বলা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন পুরুষ তাঁকে ভয় দেখিয়ে খুবই নোংরা ও ভয়ংকর কথা বলেন। এই কথা শুনে তিনি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি (Hijab Discrimination)
ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচার পেতে (Hijab Discrimination) থানায় যান। কিন্তু সেখানেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তিনি জানান, ওই রাতে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত থানায় বসে থাকলেও প্রথমে পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি। এতে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন এবং মনে করেন, তাঁর সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার
এরপর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি ভিডিও বানান এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। খুব দ্রুত সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ‘গল্লি নিউজ’-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে সমাজকর্মী আহমেদ মেমনের। তিনি ওই মহিলার পাশে দাঁড়ান এবং তাঁকে নিয়ে আবার থানায় যান।
ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে
আহমেদ মেমন পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কথায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে আলোচনার পর অবশেষে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে। পরে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনও জমা দেওয়া হয়। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডি-মার্ট কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসে
এই ঘটনার পর মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ডি-মার্ট কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসে। জানা গেছে, ভিরারের ওই ডি-মার্টের তরফে অভিযোগকারী মহিলার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। দোকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনও ধরনের বৈষম্য বা ধর্মীয় বিদ্বেষকে সমর্থন করে না এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: TMC Leader: তৃণমূল নেতার টেবিলে টাকার পাহাড়! নিমেষে ভাইরাল ভিডিও!
সমাজকর্মী আহমেদ মেমন এই ঘটনার পরে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা পোশাকের কারণে কাউকে অপমান করা বা ভয় দেখানো কখনওই ঠিক নয়। সকলকে একসঙ্গে থেকে এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


