Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষার মরসুমে বারবার দুর্যোগের মুখে (Himachal Cloudburst) পড়া হিমাচল প্রদেশ ফের একবার কেঁপে উঠল প্রকৃতির প্রাকৃতিক তাণ্ডবে। শনিবার ভোরে হঠাৎ করেই মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রাজ্যের বিলাসপুর জেলার গুত্রাহান অঞ্চল। অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক বৃষ্টির ফলে বন্যা ও কাদামাটির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু ঘরবাড়ি এবং যানবাহন।
কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Himachal Cloudburst)
প্রাথমিকভাবে যদিও কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে (Himachal Cloudburst) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড বৃষ্টির জেরে পাহাড় থেকে জল ও কাদা নেমে আসে নিচু এলাকায়। কিছু গাড়ি ধসে চাপা পড়ে গেছে এবং জমির বড় অংশ কাদায় ঢেকে গেছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বহু এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
চাষিদের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা (Himachal Cloudburst)
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ বিকট শব্দে রাস্তা ও জমি ফাটতে (Himachal Cloudburst) থাকে, তারপরই ধস নামতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই কাদার জলোচ্ছ্বাস ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে আছড়ে পড়ে। কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় এই অঞ্চলের চাষিদের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর আগে থেকেই এই সপ্তাহান্তে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস সত্যি করে শুক্রবার রাত থেকেই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ অটারি-লেহ্ জাতীয় সড়ক এবং অমৃতসর-ভোটা রোড সহ আরও দুটি রুট।

নিয়মিত দুর্যোগের শিকার
চলতি বর্ষা মৌসুমে হিমাচল প্রায় নিয়মিত দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে জুন মাসের শেষ থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে একের পর এক ধস, বন্যা ও মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মারা গেছেন অন্তত ২১৮ জন। এছাড়া রাস্তা, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, ও পরিকাঠামো মিলিয়ে রাজ্যে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: মণিপুরে শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, চুরাচান্দপুরে শান্তির আবেদন
আবহাওয়া দফতরের বক্তব্য, এ বছরের বর্ষায় রাজ্যে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির জেরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা আগামী দিনেও থাকছে। উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে ক্রমাগত পরিবেশগত ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


