Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : হিমালয় অঞ্চলে ৪০০টিরও বেশি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের আকার গত কয়েক বছরে বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থার কারণে দেশীয় দুর্যোগ ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে(Himalayan Glacial Lakes)। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জল কমিশন (Central Water Commission) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা হ্রদগুলোর বৃদ্ধি, বিপদের সম্ভাবনা এবং পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
হ্রদগুলোর বিস্তার ও অবস্থান (Himalayan Glacial Lakes)
গ্লেসিয়াল লেকস অ্যান্ড ওয়াটার বডিস-এর মাসিক রিপোর্ট ২০২৩-এর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় জল কমিশন জানিয়েছে, লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে এসব হ্রদ বিস্তৃত (Himalayan Glacial Lakes)। গ্লেসিয়াল লেক অ্যাটলাস ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ৬৮১টি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের মধ্যে ৪৩২টি ভারতের অন্তর্গত।
এ রিপোর্টে বলা হয়েছে, হ্রদগুলোর মোট এলাকা ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯১৭ হেক্টর থেকে এটি বেড়ে ২৫০৮ হেক্টর হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশে ১৯৭টি, লাদাখে ১২০টি, জম্মু-কাশ্মীরে ৫৭টি, সিকিমে ৪৭টি, হিমাচল প্রদেশে ৬টি এবং উত্তরাখণ্ডে ৫টি হ্রদ রয়েছে।
এই বছরের জুনের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলের মোট ১৪৩৫টি হ্রদের আকার বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হ্রদগুলোর দ্রুত বৃদ্ধি আগামীতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হতে পারে।
হ্রদ বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব (Himalayan Glacial Lakes)
হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের আকার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো গ্লোবাল উষ্ণায়ন ও হিমবাহ গলে যাওয়া(Himalayan Glacial Lakes)। হিমালয় অঞ্চলের উচ্চতাপ্রাপ্ত এলাকায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাব সরাসরি অনুভূত হচ্ছে।
হ্রদের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিম্নভূমি অঞ্চলে হঠাৎ হ্রদ ফাটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর ফলে বন্যা, হড়পা বান এবং ধসের ঝুঁকি দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালে কেদারনাথে হিমবাহ ফেটে ভয়ানক বন্যা হয়, যা বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করে। একইভাবে, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর ধরালীতে ভয়ানক হড়পা বানের ঘটনায় দেখা গেছে, হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ ফাটার প্রভাব এখানে সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও পড়ুন : Israel Hamas Conflict : প্যালেস্টাইনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, ফ্রান্স ব্রিটেনের পর ঘোষণা বেলজিয়ামের
পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতার প্রয়োজন (Himalayan Glacial Lakes)
কেন্দ্রীয় জল কমিশন এই হ্রদগুলোর উপর ক্রমাগত নজরদারি চালানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছে(Himalayan Glacial Lakes)। হ্রদগুলোর বিপদ-সঙ্কেত সময়মতো ধরা না গেলে নিচু এলাকার মানুষদের জীবন ও সম্পত্তি ঝুঁকিতে পড়বে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশন (Central Water Commission) প্রস্তাব দিয়েছে, হিমবাহসৃষ্ট হ্রদগুলোর পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এতে হ্রদের পানি পরিমাপ, জলস্রোত পর্যবেক্ষণ এবং হঠাৎ হ্রদ ফাটার আশঙ্কা আগাম শনাক্ত করা যাবে। সতর্কতা ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে আগে থেকে সতর্ক করা সম্ভব হবে।
রাজ্যভিত্তিক প্রভাব (Himalayan Glacial Lakes)
- অরুণাচল প্রদেশ: ১৯৭টি হ্রদের আকার বৃদ্ধি। পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও ধসের ঝুঁকি বেড়েছে(Himalayan Glacial Lakes)।
- লাদাখ: শুষ্ক ও উচ্চভূমি এলাকায় ১২০টি হ্রদ রয়েছে। হঠাৎ গলে যাওয়া হিমবাহ নীচু এলাকা ও সড়ক যোগাযোগের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
- জম্মু-কাশ্মীর: ৫৭টি হ্রদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের কারণে নদী ভাঙন এবং আশপাশের জনপদের জন্য হুমকি।
- সিকিম: ৪৭টি হ্রদ। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে হ্রদ ফাটার সম্ভাবনা রয়েছে।
- হিমাচল প্রদেশ: ৬টি হ্রদ, যা পাহাড়ি জনপদের জন্য হঠাৎ বন্যার কারণ হতে পারে।
- উত্তরাখণ্ড: ৫টি হ্রদ উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে উত্তরকাশী ও কुमাউনের এলাকায়।
এই হ্রদগুলোর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ না করলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন : Indian Army Top 5 Operation : ভারতীয় সেনার ৫ নির্ভীক অভিযান!
বিশেষজ্ঞদের মতামত (Himalayan Glacial Lakes)
জলবিজ্ঞানী ও হিমালয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহসৃষ্ট হ্রদগুলোর সঙ্গে দ্রুতগতিতে ল্যান্ডস্লাইড, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি যুক্ত হচ্ছে(Himalayan Glacial Lakes)। হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ও হ্রদ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যেমন রিমোট সেন্সিং, ড্রোন সার্ভিল্যান্স এবং সেটেলাইট ইমেজিং ব্যবহার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্রদের পানি স্তর, হ্রদের প্রাচীরের অবস্থা এবং হ্রদের আশপাশের ভূ-প্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হলে বিপদ আগাম শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা (Himalayan Glacial Lakes)
কেন্দ্রীয় জল কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে:
- হ্রদগুলোর জন্য একটি জাতীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা।
- প্রতিটি হ্রদের জন্য সেন্সর ও জলস্তর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা।
- হ্রদ ফাটার সম্ভাবনা দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত সতর্ক করা।
- নিচু এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য সতর্কতা ও ত্রাণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা।
- হিমালয় অঞ্চলে পুনঃস্থাপনযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি হ্রাস।
এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের কারণে ভয়াবহ দুর্যোগ কমানো সম্ভব হবে।
হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহসৃষ্ট হ্রদগুলোর বৃদ্ধি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবন, স্থাপনা ও অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি(Himalayan Glacial Lakes)। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রিপোর্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই হ্রদগুলোর ওপর ক্রমাগত নজরদারি চালানো জরুরি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এবং হ্রদ ফাটার আগে সতর্কতা গ্রহণ করা ছাড়া বিপদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলি এখন এমন সময় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।


