Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভিনেতা তথা খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন পৌঁছেছে আদালতের দ্বারে (Hiran Chatterjee)। দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা কাটিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তিনি। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে আইনি সুরক্ষা মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নয়; তদন্ত ও মূল মামলার শুনানি চলবে নিজস্ব গতিতেই।বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। এই রায় নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দুই ক্ষেত্রেই হিরণের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিয়ে ও প্রথম স্ত্রীর এফআইআর (Hiran Chatterjee)
সমগ্র বিতর্কের সূচনা হয় যখন সমাজমাধ্যমে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসে (Hiran Chatterjee)। অভিযোগ, বিবাহবিচ্ছেদ না করেই বারাণসীতে গোপনে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের বিবাহ এখনও আইনত বহাল রয়েছে। এরপর ২১ জানুয়ারি রাতে কন্যাকে নিয়ে আনন্দপুর থানায় গিয়ে হিরণ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অনিন্দিতা। অভিযোগে প্রতারণা, বৈবাহিক আইন ভঙ্গ এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়।
কোন কোন ধারায় মামলা?
হিরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ধারাগুলি হল, ধারা ৪৯৪: স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শাস্তি হতে পারে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয়ই। ধারা ৪৯৮এ: বিবাহিত মহিলার উপর স্বামীর নির্যাতন ও গার্হস্থ্য হিংসা, শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা। এছাড়াও ৮২(১), ৮৫ এবং ৫৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ধারাগুলির ভিত্তিতে গ্রেফতারের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হিরণ।

হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন (Hiran Chatterjee)
গত ২৮ জানুয়ারি হিরণের আইনজীবী বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেল একজন জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান বিধায়ক; তাই আগাম জামিনের আবেদন দ্রুত বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালতকে আশ্বস্ত করা হয় যে, হিরণ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা দেবেন। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। তবে শর্তসাপেক্ষে প্রতি ১৫ দিন অন্তর তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে হিরণকে। আদালত আরও জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনওরূপ বাধা সৃষ্টি করা চলবে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য (Hiran Chatterjee)
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় এই আইনি স্বস্তি হিরণের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই তিনি দলীয় প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন এবং সমাজমাধ্যমে প্রচার সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট ভাগ করেছেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয় সত্ত্বেও আদালত আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আগাম জামিন দেওয়া হলেও মূল মামলার নিষ্পত্তি নির্ভর করবে নিম্ন আদালতে চলা তদন্ত ও প্রমাণের উপর।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
হিরণের প্রতিক্রিয়া
আদালতের রায়ের পর হিরণ বলেন, “মহামান্য আদালতের ওপর আমার পুরো বিশ্বাস ছিল। মহামান্য আদালত আমার সেই বিশ্বাস রেখেছেন।” তবে অভিযোগের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি বা তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনায় একদিকে রয়েছে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা। বৈবাহিক সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন এবং জনসমক্ষে থাকা ব্যক্তিত্বের নৈতিক দায়িত্ব সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন কেবল আইনি লড়াই নয়, সামাজিক আলোচনারও অংশ। হাইকোর্টের আগাম জামিন হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে বিচারব্যবস্থা। আইনের আদালতে প্রমাণই শেষ কথা এ কথা আবারও স্পষ্ট হল এই মামলায়।



