Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে (Humayun Kabir)। সেই আবহেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি জটিল হতেই অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ভোলবদল করলেন হুমায়ুন কবীর।

‘১০০ আসন পেলে মুখ্যমন্ত্রী’ মন্তব্যে বিতর্ক (Humayun Kabir)
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যদি জনতা উন্নয়ন পার্টি ১০০টি আসন পায় (Humayun Kabir), তবে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপির সমর্থন প্রয়োজন হলে তা নেওয়া হবে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শুরু করে। শাসক দলের অভিযোগ ছিল, বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করতেই এই বক্তব্য।
সোশাল মিডিয়ায় পাল্টা জবাব (Humayun Kabir)
সমালোচনার জবাব দিতে দেরি করেননি হুমায়ুন কবীর। সোশাল মিডিয়ায় নিজের প্রোফাইলে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। হুমায়ুনের দাবি, তিনি সেদিন স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, জনতা উন্নয়ন পার্টি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কোনও গণতান্ত্রিক শক্তির সমর্থনে সরকার গঠন করা হতে পারে। সেই সমর্থন বিজেপি হোক বা তৃণমূল যে দল মানুষের উন্নয়নের শর্ত মানবে, তাদের সঙ্গেই তাঁরা এগোবেন।

‘ভিডিও এডিট করে ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে’ (Humayun Kabir)
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করার সাহস দেখায়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে ভিডিওর অর্ধাংশ কেটে শাসক দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে, যাতে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এই ঘটনাকে তিনি ‘নৈতিকতার চরম অবক্ষয়’ বলে আখ্যা দেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে ধিক্কার জানান।
বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু (Humayun Kabir)
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু নিয়েও সরব হন হুমায়ুন কবীর। বসিরহাটের মাওলানাবাগ দরবার থেকে তিনি সরাসরি দাবি করেন এটি আত্মহত্যা নয়, একটি পরিকল্পিত খুন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করতে প্রশাসনিক স্তরে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করানো হয়েছে। আত্মহত্যার তত্ত্ব সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি। হুমায়ুন কবীরের মতে, এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতেই নানা স্তরে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা (Humayun Kabir)
এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিলান্যাস হয়ে পড়ে থাকা বেলডাঙার বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হবে। হুমায়ুন কবীরের কথায়, মসজিদের জমি ও প্ল্যান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্ধারিত দিনেই কাজ শুরু হবে। এই কাজে কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “এই কাজে কেউ বাধা দিতে পারবে না।”

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি শক্ত অবস্থান
মাওলানাবাগ দরবার থেকেই হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করে দেন, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের নির্মাণ শুরু হতে চলেছে। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতেও নিজের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।



