Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য তৈরি করেছে মুজকেরা বিবির উত্থান (Humayun Kabir)। সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা এক সাধারণ মহিলা সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে নামছেন তাও আবার ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নবগঠিত দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র হয়ে মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

কে এই মুজকেরা বিবি? (Humayun Kabir)
মুজকেরা বিবি (কিছু সংবাদমাধ্যমে যাঁর নাম ‘মুস্তারা বিবি’ হিসেবেও প্রকাশিত) বৈষ্ণবনগর বিননগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। জন্মসূত্রে বীরভূমের মেয়ে হলেও বিয়ের পর তিনি মালদহের বৈষ্ণবনগরে স্থায়ী হন। দীর্ঘদিন ধরে বৈষ্ণবনগর থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী কুরবান আনসারী স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সমাজসেবী। একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলেও জানা যায়। ফলে রাজনীতির সঙ্গে পরিবারগত যোগ থাকলেও, মুজকেরা বিবির নিজস্ব রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ এই প্রথম।
প্রার্থী ঘোষণার পরই কর্মজীবনে খাঁড়া (Humayun Kabir)
রাজনীতিতে নাম লেখানোর মূল্য যে কতটা চড়া হতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মুজকেরা বিবি। জনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজে যোগ দিতে গিয়েই এই খবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই চমকে ওঠেন তিনি। তবে প্রতিক্রিয়ায় কোনো হতাশা নয়, বরং দৃঢ়তারই প্রকাশ করেছেন মুজকেরা।
‘বড় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত’ (Humayun Kabir)
চাকরি হারিয়েও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন এই নতুন প্রার্থী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “রাজনীতিতে আমি নতুন। হুমায়ুন কবীরই আমার রাজনৈতিক গুরু। প্রার্থী হওয়ার পর কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো আফসোস নেই। মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম, এখন বড় লড়াইয়ের জন্য আমি প্রস্তুত।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি রাজনীতিকে দেখছেন এক বৃহত্তর সামাজিক লড়াই হিসেবে।

হুমায়ুন কবীর ও জনতা উন্নয়ন পার্টির কৌশল (Humayun Kabir)
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। নতুন দল গড়ে বৈষ্ণবনগরে মুজকেরা বিবির মতো এক সাধারণ মুখকে প্রার্থী করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন, এবার লড়াই হবে ‘নেতা বনাম সাধারণ মানুষ’-এর। সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে বিধানসভা প্রার্থী এই রূপান্তর জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল তৃতীয় স্থানে যাবে (Humayun Kabir)
মুজকেরা বিবির স্বামী কুরবান আনসারী আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে লড়াই হবে মূলত বিজেপি ও জনতা উন্নয়ন পার্টির মধ্যে, তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোট পেলেও উন্নয়ন করতে ব্যর্থ, সেই কারণেই তৃণমূল তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে, এই মন্তব্য যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন: Gulmarg Snowfall: গুলমার্গে মরশুমের প্রথম তুষারপাত, শীতের আমেজে নামল পর্যটকদের ঢল
রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস
মালদহ জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশীষ কুণ্ডু হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁকে ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, ভোটে তিনি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারবেন না।
বিজেপি
দক্ষিণ মালদহের বিজেপি সহ-সভাপতি তারক ঘোষ এই নতুন দলকে তৃণমূলেরই ভাঙা অংশ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বিজেপির লক্ষ্য একটাই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। AIMIM (মীম) মীমের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম তুলনামূলক সংযত সুরে জানান, কোনও দল বা জোট নয়, ব্যালট বাক্সেই চূড়ান্ত রায় দেবে মানুষ।



